যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক দম্ভে ইরানের চপেটাঘাত: মধ্যপ্রাচ্যে ৭টি মার্কিন ঘাঁটির রাডার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিধ্বস্ত


ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দৃশ্যপট নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে। ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের হামলার জবাবে এক নজিরবিহীন সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছে তেহরান। গত সপ্তাহান্ত থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক ড্রোন ও মিসাইল হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ওপর বিধ্বংসী আঘাত হেনেছে ইরান।

নিউইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, বাহরাইন, কাতার, কুয়েত, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত অন্তত সাতটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনা ইরানের নিশানায় পরিণত হয়েছে। এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল মার্কিন বাহিনীর 'চোখ ও কান' হিসেবে পরিচিত রাডার এবং রিয়েল-টাইম যোগাযোগ ব্যবস্থাকে স্তব্ধ করে দেওয়া।

মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে ইরানি ড্রোনের আঘাতে দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন টার্মিনাল ধ্বংস হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম মার্কিন ঘাঁটি 'আল উদাইদ'-এ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রায় ১১০ কোটি ডলার মূল্যের একটি অত্যাধুনিক আর্লি ওয়ার্নিং রাডার সিস্টেম বিধ্বংস হয়েছে।

ক্যাম্প আরিফজান এবং আলী আল সালেম বিমানঘাঁটিতে একাধিক রাডার ডোম এবং স্যাটেলাইট ডিশ ধ্বংসের খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযানে আমেরিকার প্রায় ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) ডলার সমমূল্যের সামরিক সরঞ্জাম পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর ইরান একে সরাসরি 'যুদ্ধ ঘোষণা' হিসেবে অভিহিত করে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান সরাসরি সম্মুখ যুদ্ধে না গিয়ে মার্কিন বাহিনীর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ধ্বংস করার কৌশল নিয়েছে, যা তেহরানকে কৌশলগতভাবে বড় সুবিধা দিচ্ছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত আমেরিকান নাগরিকদের দ্রুত ওই অঞ্চল ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সৌদি আরব ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

Post a Comment

0 Comments