ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী বর্তমানে এক নজিরবিহীন জনবল সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে কট্টরপন্থী 'হারেদি' বা আল্ট্রা-অরথোডক্স ইহুদি সম্প্রদায়ের সেনাবাহিনীতে যোগদানে অনীহা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। এর ফলে ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সে (আইডিএফ) পুরুষ সৈন্যের অভাব মেটাতে নারী যোদ্ধাদের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ইসরায়েলে ইহুদি নাগরিকদের জন্য সামরিক সেবা বাধ্যতামূলক হলেও হারেদি সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে এর বাইরে রয়েছে। ধর্মীয় অধ্যয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া এই গোষ্ঠীটি বারবার আইডিএফ-এর যোগদানের প্রস্তাব বা 'অফার লেটার' প্রত্যাখ্যান করছে।
ইসরায়েলি সেনাপ্রধানের মতে, সম্মুখ সমরে সক্ষম পুরুষ সৈন্যের সংকটে সেনাবাহিনী ভেতর থেকে ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় এখন মূলত নারী সেনাদের ওপর ভরসা করতে হচ্ছে, যা অনেক সময় নানা বিপত্তিরও সৃষ্টি করছে।
ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেনগুরিয়ন হারেদিদের সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার যে নীতি চালু করেছিলেন, তা বর্তমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
টাইমস অফ ইসরায়েলের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আইডিএফ-এর প্রতি ১০০ জন সদস্যের মধ্যে ২১ জনই নারী। অর্থাৎ, প্রতি পাঁচজন সম্মুখ যোদ্ধার মধ্যে একজন নারী। এর মধ্যে আবার ধার্মিক নারী সেনাদের সংখ্যাও ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জনসংখ্যার একটি দ্রুত বর্ধনশীল অংশ (হারেদি) সামরিক সেবায় অংশ না নেওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে আইডিএফ-এর কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ছে। এই সামাজিক ও কৌশলগত রূপান্তর ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
0 Comments