একটি বিতর্কিত ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়াকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক উত্তোজনায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে নেপালের দক্ষিণাঞ্চল। বিশেষ করে পারসা ও ধানুসা জেলায় উপাসনালয়ে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় প্রশাসন কারফিউ জারির পাশাপাশি ভারত-নেপাল সীমান্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধানুসা জেলার কমলা মিউনিসিপালিটির শাখোয়া মারান এলাকায় একদল দুষ্কৃতকারী একটি মসজিদে ভাঙচুর চালায়। এই ঘটনার দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করলেও উত্তেজনা প্রশমিত হয়নি।
গত রোববার সকালে নেপালের বীরগঞ্জ শহর অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। হাজার হাজার বিক্ষোভকারী রাজপথে নেমে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতা স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে চড়াও হয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ছয় রাউন্ড টিয়ার গ্যাস বা কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। অন্যদিকে, হিন্দু সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, বিক্ষোভের সময় দেব-দেবীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আনতে গত সোমবার বিকেল থেকে ধানুসা ও পারসা জেলার নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়। প্রাথমিকভাবে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত কারফিউ বলবৎ থাকলেও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এর সময়সীমা দুপুর ১টা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। বর্তমানে দাঙ্গা কবলিত এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া টহল জারি রয়েছে।
নেপালের এই অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা যাতে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য ভারত-নেপাল সীমান্তে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সশস্ত্র সীমাবল (SSB) পুরো সীমান্ত সিল করে দিয়েছে। জরুরি চিকিৎসা বা অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা ছাড়া সাধারণ নাগরিকদের জন্য সীমান্ত পারাপার এবং মৈত্রী ব্রিজে চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে।
0 Comments