ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের ২৯তম দিনে এসে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) দুবাইয়ের দুটি অত্যন্ত গোপন মার্কিন ঘাঁটিতে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। হামলায় ৫০০-এর বেশি মার্কিন সেনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং এতে ব্যাপক প্রাণহানির শঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বিত প্রতিষ্ঠান 'খাতাম আল আম্বিয়া' এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে। আইআরজিসি-র সদর দপ্তরের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিম জলফাকারী জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনী তাদের মূল আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলো থেকে পালিয়ে দুবাইয়ের দুটি গোপন স্থানে আশ্রয় নিয়েছিল।
- প্রথম গোপন আস্তানা: এখানে ৪০০-এর বেশি মার্কিন সেনা অবস্থান করছিল।
- দ্বিতীয় গোপন আস্তানা: এখানে ১০০-এর বেশি সেনা ছিল।
ইরানী বাহিনীর দাবি, উভয় স্থানেই অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। হামলার পর কয়েক ঘণ্টা ধরে অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে আহত ও নিহত সেনাদের সরিয়ে নিতে দেখা গেছে। আইআরজিসি এই অঞ্চলকে 'মার্কিন সেনাদের কবরস্থান' করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
একই দিনে দুবাইয়ের একটি ড্রোন বিধ্বংসী ডিপোতেও হামলা চালিয়েছে ইরান। আইআরজিসি-র দাবি, হামলার সময় ওই ডিপোতে ২১ জন ইউক্রেনীয় ড্রোন বিশেষজ্ঞ উপস্থিত ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, তারা সবাই এই হামলায় নিহত হয়েছেন। তবে ইউক্রেন এই হামলার তথ্য অস্বীকার করে ভিন্ন দাবি করেছে।
এক মাস পূর্ণ হওয়ার মুখে এই যুদ্ধ এখন আর কেবল আঞ্চলিক সীমাবদ্ধতায় নেই। ইরানের ক্রমাগত হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের কারণে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এখন এক বিধ্বংসী মোড় নিয়েছে। আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে মার্কিন নেতৃত্বকে হুঁশিয়ার করে বলা হয়েছে, তাদের সামনে এখন একমাত্র পথ হলো আত্মসমর্পণ।
0 Comments