বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড, নারী হয়রানি, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ঝালকাঠির নলসিটি উপজেলার রানাপাশা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি হাফেজ মোহাম্মদ নুরুল্লাহকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
কিছুদিন আগে এক অচেনা নারীর সঙ্গে নুরুল্লাহর আপত্তিকর ভিডিও কলের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এছাড়াও, এক মাদ্রাসার ছাত্রের মাকে মোবাইলে নিয়মিত কুপ্রস্তাব পাঠানোর অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ওই ছাত্রের স্বজনরা তাকে আটকে মারধরও করেন।
নুরুল্লাহ নিজেকে কখনো ইসলামিক বক্তা, কখনো সাংবাদিক, এমনকি বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টালের প্রতিনিধি হিসেবেও পরিচয় দিতেন।
বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও, ঘটনার ভিডিও ও তার জবানবন্দির কিছু অংশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
একের পর এক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা ও উপজেলা জামায়াত যৌথভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে ইউনিয়ন জামায়াত সভাপতির পদ থেকে প্রথমে স্থগিত করা হয়, এবং পরবর্তীতে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
ঝালকাঠী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোঃম্মদ ফরিদুল হক ও সৈয়দ মোহাম্মদ আব্দুস সালাম জানান যে, দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করায় নুরুল্লাহকে তার পদ থেকে স্থগিত করা হয়েছে। তবে তারা এও অভিযোগ করেন যে, স্থানীয় কয়েকজন ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ঘটনার প্রচার করছে এবং নুরুল্লাহকে মারধর করারও অভিযোগ করেন তারা। তাদের মতে, এটা একটি ষড়যন্ত্র।
এ বিষয়ে হাফেজ নুরুল্লাহর মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
0 Comments