সাংবাদিক মোস্তাফা ফিরোজ, জামায়াতে ইসলামী সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা এবং শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে যেসব উক্তি ব্যবহার করছে, তাতে মনে হচ্ছে যেন স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধটাই একটি "খারাপ জিনিস"। তার মতে, ইতিহাসকে মুছে দেওয়া বা উল্টে ফেলার যে চেষ্টা অব্যাহতভাবে হয়েছে, তার ফলেই শেষ পর্যন্ত তারেক রহমানকে উপলব্ধি করতে হয়েছে যে এই শক্তিকে মোকাবেলা করা প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন যে, একসময় আওয়ামী লীগ তাদের রাজনৈতিক স্বার্থে স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষের যে বিভাজন তৈরি করেছিল, বর্তমানে তা একটি 'রিয়েল ফাইট'-এ পরিণত হয়েছে, যেখানে আওয়ামী লীগ সরাসরি না থাকলেও অন্য পক্ষকে এই ঝাণ্ডা তুলে ধরতে হচ্ছে।
মোস্তাফা ফিরোজ প্রশ্ন তোলেন যে, যে জামায়াত দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হওয়া বিএনপিকে এখন 'ফ্যাসিস্টের আরেকটা শক্তি' হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে, তারা কীভাবে দীর্ঘদিনের মিত্রশক্তি হতে পারে। তিনি মনে করিয়ে দেন যে জোট সরকারের সময়ে জামায়াতের মন্ত্রীরা ছিলেন এবং তারা কখনোই বিএনপির বিরুদ্ধে কোনো বিদ্রোহ করেননি। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত সুবিধা অনুযায়ী কথা বলছে এবং আকারে-ইঙ্গিতে বিএনপিকে ফ্যাসিস্ট বলার চেষ্টা করছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হচ্ছে যে বিএনপি নির্বাচন পিছিয়ে দিচ্ছে, ষড়যন্ত্র করছে, ভারতের সঙ্গে সমঝোতা করছে এবং '৭২ এর ফ্যাসিস্ট সংবিধানকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে।
এই ধরনের অভিযোগের কারণেই বিএনপিকে জামায়াতের বিরুদ্ধে কথা বলতে হচ্ছে, যার ফলস্বরূপ স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গটি আবার সামনে চলে আসছে।
তিনি মন্তব্য করেন, যারা নির্বাচনের সময় এলে তসবিহ নিয়ে ঘোরাফেরা করে, তারাই ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করে। তিনি মনে করেন ধর্মভীরু সাধারণ মানুষকে এই পুরনো রাজনীতি দিয়ে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। মোস্তাফা ফিরোজের মতে, জামায়াতের বর্তমান আন্দোলন আসলে সরকারের বিরুদ্ধে নয়, বরং পরিষ্কারভাবে বিএনপির বিরুদ্ধে । তিনি সতর্ক করেন যে জামায়াত এবং তাদের সহযোগী চরম উগ্রপন্থী দলগুলোর নেতৃত্বে সারাদেশে 'তৌহিদ জনতা'র মোভমেন্টগুলি প্রমোট করা হচ্ছে । যদি এই জোট বা জামায়াত ক্ষমতায় আসে, তাহলে দেশকে এদের কথা শুনতে হবে, যা একটি 'ভয়ের চিত্র' তৈরি করবে।
0 Comments