ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীর মৃত্যুর খবরের রেশ কাটতে না কাটতেই তার ভেরিফাইড এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে আসা একটি পোস্ট বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। শুক্রবার ভোরে করা এই পোস্টে সরাসরি ইসরাইলে হামলার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
গত ১ মার্চ খামেনীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে যখন শোক ও অনিশ্চয়তা, ঠিক তখনই তার ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট থেকে যুদ্ধের এই ডাক আসে। পোস্টে একটি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ছবিসহ ফার্সি ভাষায় লেখা ছিল, "খোরামশারের মুহূর্ত এখন দিগন্তে।" সেখানে আরও উল্লেখ করা হয় যে, ইরানের তরুণদের তৈরি এই অস্ত্র ইহুদিবাদী শাসনের হৃদপিণ্ড পুড়িয়ে দিতে সক্ষম।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, 'খোরামশার-৪' একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এর বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
- পাল্লা: ১০০০ থেকে ২০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত।
- বিস্ফোরক ক্ষমতা: এটি প্রায় ১৮০০ কেজি ওজনের বিশাল ওয়ারহেড বহনে সক্ষম।
- ধ্বংসক্ষমতা: ১০ মিটারের এই মারণাস্ত্রটি শত্রুর যেকোনো দুর্ভেদ্য দুর্গ মুহূর্তেই ধ্বংস করতে পারে।
বিশ্লেষকরা এই পোস্টটিকে কেবল 'ফাঁকা আওয়াজ' হিসেবে দেখছেন না। কারণ, পোস্টটি আসার ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে বৃহস্পতিবার ভোরে ইসরাইলের বেনগুরিয়ন বিমানবন্দর এবং সংলগ্ন ২৭ নম্বর স্কোয়াড্রন বিমান ঘাঁটিতে খোরামশার-৪ মিসাইল আছড়ে পড়েছে। ইরানি বাহিনী এই হামলার দায় স্বীকার করে জানিয়েছে, এক টন ওজনের বিস্ফোরক নিয়ে মিসাইলগুলো সরাসরি তেল আবিবের বুকে আঘাত হেনেছে, যার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
খামেনীর মৃত্যুর পর তার অ্যাকাউন্ট থেকে এই ধরনের বার্তার ফলে গোয়েন্দা বিশ্বে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—আইআরজিসি-র (IRGC) কোনো কট্টরপন্থী গোষ্ঠী কি এখন তেহরানের ক্ষমতার লাগাম ধরেছে, নাকি খামেনীর ডিজিটাল অস্তিত্বকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে কোনো বৃহত্তর যুদ্ধের ছক কষা হচ্ছে?
এই রহস্যময় পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।
0 Comments