ইসলামী বক্তা মুফতি কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহিম সম্প্রতি এক বক্তব্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস ও ১৯৭১ সালের প্রজন্মকে নিয়ে বিতর্কিত ও স্বাধীনতা-বিরোধী মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
মুফতি ইব্রাহিম ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং সেই প্রজন্মকে লক্ষ্য করে একাধিক আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, "৭১ প্রজন্ম ছিল নিকৃষ্টতম প্রজন্ম" এবং "৭১ প্রজন্মের মতো খারাপ প্রজন্ম মনে হয় বাংলাদেশের ইতিহাসে আর ছিল না"। এই প্রজন্মের "যুদ্ধ মিথ্যা", "স্বাধীনতা মিথ্যা" এবং এদের "সবকিছুই মিথ্যা" বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, "'৭১ প্রজন্মটা এত মিথ্যুক, এদের নেতাও মিথ্যুক, এদের কর্মীরাও মিথ্যুক"।
মুফতি ইব্রাহিমের মতে, "তুমি যে ১৯৭১ সালের স্বাধীন হয়েছিলে সেই ৭১ সালের পুরো ঘটনা ছিল ভারতীয় চক্রান্ত"। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, "একাত্তরে এ ভারত ও আওয়ামী লীগ মিলে এই দেশ ও জাতিকে হত্যা করেছিল"। বক্তা দাবি করেন, দেশ স্বাধীন হয়েছে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান তৈরির মাধ্যমে।
মুফতি ইব্রাহিম তার বক্তব্যে ভারত-ঘনিষ্ঠ বলে বিবেচিতদের লক্ষ্য করে উসকানিমূলক মন্তব্য করেন। তিনি ঘোষণা করেন: "যেগুলো ভারতের বন্ধু এগুলো বাংলাদেশের শত্রু"।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, "স্যার সকল ভারতবন্ধু বাংলাদেশের জঘন্য শত্রু"।
তিনি ঘোষণা দেন, "কোনো ভারত বন্ধুকে বাংলাদেশের কোথাও চেয়ারে রাখবো না ইনশাআল্লাহ"।
মুফতি ইব্রাহিমের বিতর্কিত মন্তব্য এবারই প্রথম নয়। এর আগেও তিনি একাধিকবার ভুল তথ্য ও অবৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়ে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন।
তিনি তার ওয়াজ মাহফিলে করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়ার কারণে নারীর দাড়ি গজাচ্ছে এবং পুরুষের কণ্ঠ পাল্টে নারী কণ্ঠ হচ্ছে বলে মন্তব্য করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিলেন।
বিভিন্ন সময়ে মিথ্যা দাবি উপস্থাপন ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। ২০২১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ তাকে আটক করেছিল। তিনি তিন মাস ১৯ দিনের কারাবাস শেষে জামিন পেয়েছিলেন ।
মুফতি ইব্রাহিমের এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা ঝড় উঠেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ১৯৭১ সালের মতো স্পর্শকাতর ইতিহাসকে নিকৃষ্টতম বলার মতো দুঃসাহস তিনি কোথায় পেলেন।
0 Comments