মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবিকে ভুল প্রমাণ করে সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইরান। তেহরানের ছোড়া একের পর এক ব্যালেস্টিক মিসাইল ও আত্মঘাতী ড্রোনের আঘাতে কার্যত তছনছ হয়ে গেছে রিয়াদ সংলগ্ন প্রিন্স সুলতান এয়ারবেস।
হঠাৎ বিকট সাইরেনের শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। পেন্টাগনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ইরানের এই অতর্কিত হামলায় অন্তত ১৫ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। কেবল প্রাণহানিই নয়, এই হামলায় ধ্বংস হয়েছে মার্কিন সামরিক আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত:
- একাধিক রিফুয়েলিং এয়ারক্রাফট।
- অত্যাধুনিক ই-থ্রি সেন্ট্রি (E-3 Sentry) নজরদারি বিমান।
- কয়েক কোটি ডলার সমমূল্যের সামরিক সরঞ্জাম এখন ভস্মীভূত ধ্বংসস্তূপ।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছিলেন যে ইরানের ৯৯ শতাংশ মিসাইল সক্ষমতা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তবে রিয়াদের আকাশে জ্বলতে থাকা আগুনের কুণ্ডলী ভিন্ন সত্যের জানান দিচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যে বড় ধরনের গলদ ছিল; ইরানের সক্ষমতার বড়জোর এক-তৃতীয়াংশ ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে, বাকি অংশ মাটির নিচের গোপন সুড়ঙ্গে অক্ষত রয়েছে।
ওয়াশিংটন পোস্টের খবর অনুযায়ী, গত চার সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ৮৫০টিরও বেশি টমাহক ক্রুজ মিসাইল ব্যবহার করেছে, যার ফলে তাদের মজুদ বিপজ্জনকভাবে কমে গেছে। যে পরিমাণ মিসাইল তৈরি করতে বছরের পর বছর সময় লাগে, তা মাত্র কয়েক দিনের যুদ্ধেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।
পিছু হটতে নারাজ পেন্টাগন এখন ইরানের ওপর 'চূড়ান্ত আঘাতের' পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে বিশাল আকারের বোমা বর্ষণ এবং প্রয়োজনে স্থলসেনা পাঠানোর মতো ভয়াবহ সিদ্ধান্ত। এই পরিকল্পনা কার্যকর হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এক মহাপ্রলয়ের সম্মুখীন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
0 Comments