যৌন সুবিধা আদায়ের বিনিময়ে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিত্ব পদ! ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অভিযোগ


ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে যৌন সুবিধার বিনিময়ে নারীদের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়ার এক বিস্ফোরক ও নজিরবিহীন অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম বিতর্কের সৃষ্টি করেছে এবং আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা, হার্ভার্ডের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ সুব্রমানিয়াম স্বামী এক পডকাস্টে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। কুখ্যাত 'এপস্টিন ফাইল' নিয়ে আলোচনার সময় তিনি অভিযোগ করেন যে, যোগ্যতার তোয়াক্কা না করে শুধুমাত্র অনৈতিক যৌন সুবিধা আদায়ের বিনিময়ে বেশ কয়েকজন নারীকে ভারতীয় সংসদ ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় জায়গা করে দেওয়া হয়েছে।

স্বামীর এই অভিযোগকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন কট্টর হিন্দুত্ববাদী লেখিকা মধু পূর্ণিমা কিশোয়ার। মজার ব্যাপার হলো, কিশোয়ার একসময় নরেন্দ্র মোদীর ঘোর সমর্থক ছিলেন এবং তাকে মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে তুলনা করে বই লিখেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি জানান, নারীদের প্রতি মোদীর নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে তিনি আগে থেকেই অবগত ছিলেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, মোদী যখন আমেরিকা সফরে যেতেন, তখন সেখানে তার বিলাসবহুল ও আয়শী জীবনযাত্রার খবর তার কানে এসেছিল। এই কারণেই তিনি ব্যক্তিগতভাবে মোদীর সঙ্গে দেখা করা থেকে বিরত ছিলেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি স্মৃতি ইরানির প্রসঙ্গ টেনে বলেন যে, কোনো কলেজ ডিগ্রি না থাকা সত্ত্বেও তাকে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী করার বিষয়টি ক্ষমতার নগ্ন অপব্যবহারের একটি বড় উদাহরণ।

এত বড় একটি চারিত্রিক পদস্খলনের অভিযোগ ওঠার পরও ভারতের মূলধারার গণমাধ্যমগুলো রহস্যজনকভাবে নীরব রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির অধিকাংশ সংবাদমাধ্যম ক্ষমতাসীনদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় এই নৈতিক কেলেঙ্কারি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একজন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ ভারতের রাজনীতির জন্য অত্যন্ত অবমাননাকর। ভারতের প্রধান বিরোধী দলগুলো ইতিমধ্যেই এই ইস্যুতে সরব হতে শুরু করেছে এবং নরেন্দ্র মোদীর পদত্যাগের দাবিতে তারা রাজপথে জোরালো আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Post a Comment

0 Comments