নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আলাউদ্দিনের ব্যক্তিগত মুহূর্তের আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস হওয়ার ঘটনায় প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার নেপথ্যে অফিসেরই এক নিরাপত্তা প্রহরীর ব্ল্যাকমেইলিংয়ের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পরপরই গত মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ইউএনও মোহাম্মদ আলাউদ্দিনকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে বদলি করা হয়েছে। যদিও প্রজ্ঞাপনে বদলির সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
ঘটনার মূল সূত্রপাত ঘটে শাল্লা উপজেলা ভূমি অফিসের নিরাপত্তা প্রহরী রাজু রায়ের সঙ্গে ইউএনও’র ঘনিষ্ঠতার সুযোগে। অভিযোগ রয়েছে, অফিসের একটি পেনড্রাইভে থাকা ব্যক্তিগত ভিডিও রাজু রায়ের নজরে আসে এবং তিনি তা নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন। এরপর শুরু হয় ব্ল্যাকমেইল। ভিডিওগুলো ব্যবহার করে ইউএনও’র কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ এবং বিভিন্ন সুবিধা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে রাজু রায়ের বিরুদ্ধে।
২০২৫ সালের জুন মাসে রাজু রায় ভিডিওগুলো একজন সাংবাদিকের কাছে পৌঁছে দেন। পরবর্তীতে সেই ভিডিওর স্ক্রিনশট অন্য সাংবাদিকদের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং এক পর্যায়ে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
অভিযুক্ত রাজু রায় দাবি করেছেন এটি একটি পুরনো ঘটনা এবং তিনি ভিডিওগুলো আগেই ডিলিট করে দিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, ওএসডি হওয়া ইউএনও মোহাম্মদ আলাউদ্দিন দাবি করেছেন, ভিডিওগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে এবং তাকে সামাজিকভাবে হেয় করতেই এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।
বর্তমানে মোহাম্মদ আলাউদ্দিনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে এবং তিনি লোকচক্ষুর অন্তরালে রয়েছেন। এই পুরো ঘটনাটি নিয়ে বর্তমানে প্রশাসনিক ও গোয়েন্দা পর্যায়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
0 Comments