মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এখন এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে ইরানের তৈরি ‘শাহেদ’ সিরিজের ড্রোন। একদিকে সাশ্রয়ী মূল্যের এই ড্রোনের আঘাতে বিপর্যস্ত হচ্ছে পশ্চিমা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের আল্টিমেটাম দিয়েছেন।
আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ইরানের শাহেদ-১৩১ এবং ১৩৬ মডেলের কামিকাজে ড্রোনগুলো বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাত্র ২০ থেকে ৫০ হাজার ডলার ব্যয়ে নির্মিত একেকটি ড্রোন ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্রকে খরচ করতে হচ্ছে প্রায় ৪০ লাখ ডলার। পিস্টন ইঞ্জিন ও ছোট আকৃতির কারণে এই ড্রোনগুলো শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন, যা মার্কিন উন্নত প্রযুক্তিকেও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় এক কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন যে, ইরানের সামনে এখন নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই। ট্রাম্পের দাবি, আত্মসমর্পণের পর নতুন নেতৃত্ব এলে তবেই ওয়াশিংটন ইরানের পুনর্গঠনে সহায়তা করবে।
ওয়াশিংটনের এই হুমকির মধ্যেই তেহরান, ইসফাহান এবং ঐতিহ্যবাহী কোম শহরে নতুন করে সিরিজ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। অন্যদিকে, ইরানও বসে নেই; তাদের ড্রোন হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল শিল্পাঞ্চল ফুজাইরাতে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে।
ইরানের এই ‘ঝাঁক বেঁধে’ (Swarm) হামলা চালানোর কৌশল প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কার্যত দিশেহারা করে দিচ্ছে, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এক নতুন ও জটিল মোড় নিয়েছে।
0 Comments