নওগাঁয় মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড: স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যা


নওগাঁয় পারিবারিক বিরোধের জেরে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নিজ স্ত্রী ও দুই বছর বয়সী অবুঝ শিশু কন্যাকে কুপিয়ে হত্যার পর ঘাতক স্বামী নিজেও আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে নওগাঁর এক এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘাতক যুবকের নাম জয়। ৫ বছর আগে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানা এলাকার বাসিন্দা দৃষ্টির সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের জেমী নামে দুই বছরের একটি কন্যা সন্তান ছিল। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই জয়ের পরিবারে কলহ চলছিল। বৃহস্পতিবার রাতে পারিবারিক বিষয় নিয়ে বিতণ্ডার একপর্যায়ে জয় হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

রাত ১২টার দিকে ঘরের দরজা বন্ধ করে জয় ধারালো ছুরি নিয়ে স্ত্রী দৃষ্টি ও কন্যা জেমীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে ঘটনাস্থলেই মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়। তাদের চিৎকার শুনে স্বজন ও প্রতিবেশীরা জড়ো হলে জয় একই ছুরি দিয়ে নিজের গলায় চালিয়ে দেন। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

জয়ের পরিবার ও প্রতিবেশীরা জানান, জয় মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে মেন্টাল ট্রিটমেন্টের অধীনে ছিলেন। ঘটনার আগের কয়েকদিন ধরেই তিনি চরম উত্তেজিত অবস্থায় ছিলেন এবং বাড়িতে ভাঙচুরও করেছিলেন। নিহত দৃষ্টির পরিবারের অভিযোগ, জয় কোনো কাজ করত না এবং প্রায়ই তাদের মেয়ের ওপর নির্যাতন করত। দৃষ্টির পরিবার তাকে নিতে চাইলেও জয় জোর করে তাদের আটকে রেখেছিল।

ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জয় মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত ছিলেন এবং পরিবারের সাথে তার দীর্ঘদিনের মনোমালিন্য ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় গভীর রাতে তিনি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে নিজেও আত্মঘাতী হন।

এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখছে।

Post a Comment

0 Comments