রাজধানীর পশ্চিম তেজতুরী বাজার এলাকায় ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার রাত সোয়া আটটার দিকে তেজগাঁও এলাকার হোটেল সুপারস্টার সংলগ্ন গলিতে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
সংগৃহীত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, মুসাব্বির এক ব্যক্তির সঙ্গে গলি দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ অন্ধকারের মধ্যে কয়েক জন হামলাকারী তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর মুসাব্বির নিজের মোবাইল ফোনটি ফেলে দিয়ে প্রাণভয়ে সামনের দিকে দৌড়ানোর চেষ্টা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার পর দুই জন অস্ত্রধারী ব্যক্তিকে গলি দিয়ে মূল সড়কের দিকে পালিয়ে যেতে দেখা গেছে, যাদের মধ্যে একজনের মুখ ঢাকা ছিল এবং অন্যজনের চেহারা স্পষ্ট ছিল।
গুলিবিদ্ধ মুসাব্বিরকে দ্রুত পান্থপথের বিআরবি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় মুসাব্বিরের সঙ্গে থাকা কারওয়ান বাজার ভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ানও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডে ঘাতকরা ৭.৬৫ ক্যালিবারের গুলি ব্যবহার করেছে। তেজগাঁও থানা পুলিশ জানিয়েছে, খুনের মোটিভ এখনো স্পষ্ট নয়। তবে তিনটি প্রধান বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে:
১. রাজনৈতিক কোনো কোন্দল বা বিরোধ।
২. ব্যক্তিগত শত্রুতা।
৩. কারওয়ান বাজার কেন্দ্রিক কোনো ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব।
হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাদের দাবি, ১২ ফেব্রুয়ারির আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতেই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে। নেতাকর্মীরা অবিলম্বে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে খুনিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা নিহতের পরিবার এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
0 Comments