মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে ‘আয়রন স্ট্রাইক’ নামে একটি নতুন সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এই অভিযানের মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা এবং কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আঘাত হানার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ইসরায়েল।
সম্প্রতি রুশ সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) এবং নিউজ এজেন্সি হাওয়ার (HAWAR) তাদের প্রতিবেদনে জানায় যে, নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক হামলার অনুমোদন দিয়েছেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বা আইডিএফ (IDF)-এর প্রধান ইয়াল জামির ইতিমধ্যে তার বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। মূলত লেবানন, ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর এবং ইরান—এই তিন ফ্রন্টে একযোগে হামলা চালানোর এক সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র করেছে ইসরায়েল।
ইসরায়েলের এই গোপন পরিকল্পনার মাঝেই বড় ধরনের সাফল্য দাবি করেছে ইরান। তেহরান থেকে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের (Mossad) একজন উচ্চপদস্থ এজেন্টকে আটক করেছে ইরানি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আটককৃত ওই এজেন্ট স্বীকার করেছেন যে, তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে ইরানি জনগণের মধ্যে সরকারবিরোধী উস্কানি ছড়ানো এবং বর্তমান বিক্ষোভগুলোতে মদদ দেওয়ার কাজ করছিলেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নেতানিয়াহু একদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আশ্বাস দিয়েছেন যে তারা ইরানের সাথে সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে চায় না, কিন্তু অন্যদিকে ভেতরে ভেতরে ‘আয়রন স্ট্রাইক’-এর মতো ধ্বংসাত্মক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইসরায়েলের ধারণা, এই যুদ্ধের মাধ্যমে তারা আগামী চার বছরের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দিতে পারবে এবং বিতর্কিত অঞ্চলগুলো দখল করতে সক্ষম হবে।
ইরানের সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা বাহিনী আইআরজিসি (IRGC) ইসরায়েলের যেকোনো আগ্রাসন মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলি গোয়েন্দা তৎপরতা এবং সামরিক হুমকির বিপরীতে তারা ‘পাথরের দেয়ালের’ মতো শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
0 Comments