গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পকে ডেনমার্কের চরম হুঁশিয়ারি: ‘হামলা হলে ন্যাটোর অস্তিত্ব থাকবে না’


ভেনেজুয়েলায় সফল সামরিক অভিযানের পর এবার উত্তর আটলান্টিকের খনিজ সমৃদ্ধ দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডের দিকে নজর দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ডেনমার্কের এই আধা- স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটি হস্তগত করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডরিকসেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা চালায়, তবে সামরিক জোট ন্যাটোর (NATO) অস্তিত্ব চিরতরে বিলীন হয়ে যাবে।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে আমেরিকার অংশ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। ট্রাম্পের দাবি, গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে রুশ ও চীনা জাহাজে ছেয়ে গেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তিনি মনে করেন, ডেনমার্কের পক্ষে এই দ্বীপ রক্ষা করা সম্ভব নয়। গত রোববার সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান, আগামী ২০ দিনের মধ্যেই গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে

উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন ট্রাম্পের ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ স্টিফেন মিলারের স্ত্রী কেটি মিলার। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (X) যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার রঙে রাঙানো গ্রিনল্যান্ডের একটি মানচিত্র পোস্ট করে লেখেন, ‘শীঘ্রই’। একে ‘অসম্মানজনক’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স ফ্রেডেরিক নীলসেন বলেন, "আমাদের দেশ কেনাবেচার জিনিস নয়"

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডরিকসেন ৫ জানুয়ারি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ন্যাটোর অন্তর্ভুক্ত কোনো সদস্য দেশের ওপর সামরিক আক্রমণ চালায়, তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভিত্তি ধসে পড়বে। ট্রাম্প প্রশাসন যদি বলপ্রয়োগের পথে হাঁটে, তবে দীর্ঘদিনের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ছিন্ন হওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার।

গ্রিনল্যান্ড সংকট ২০২৬

বিষয়বর্তমান পরিস্থিতি
অবস্থানভৌগোলিকভাবে উত্তর আমেরিকা মহাদেশে হলেও এটি ডেনমার্কের অংশ।
ট্রাম্পের অবস্থানজাতীয় ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে এর নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা জরুরি।
ডেনমার্কের প্রতিক্রিয়াহামলা মানেই ন্যাটোর সমাপ্তি এবং নিরাপত্তা কাঠামোর ধ্বংস।
গ্রিনল্যান্ডের প্রতিক্রিয়াদেশের ভবিষ্যৎ কোনো সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট দিয়ে নির্ধারিত হবে না।
এখন পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডেনমার্কের এই কড়া হুঁশিয়ারির কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Post a Comment

0 Comments