নিউ ইয়র্ক যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল হেফাজতে থাকা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে হাতে হাতকড়া এবং পায়ে শিকল পরা অবস্থায় নিউ ইয়র্কের ফেডারেল আদালতে তোলা হয়েছে। শনিবারের এই শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে তৈরি হয় এক টানটান উত্তেজনা ও নাটকীয় পরিস্থিতি।
শনিবার নিউ ইয়র্ক সিটির ফেডারেল আদালত ভবনে শুনানির সময় উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক ও উৎসুক জনতা। আদালত কক্ষে প্রবেশের সময় শিকলের ঝনঝন শব্দের মাঝেই মাদুরো উচ্চস্বরে দাবি করেন, তাকে অপহরণ করা হয়েছে। বিচারক অ্যালভিন হেলারস্টেন তার পরিচয় জানতে চাইলে মাদুরো স্প্যানিশ ভাষায় শান্ত কণ্ঠে বলেন:
"আমি নিকোলাস মাদুরো। আমি ভেনেজুয়েলা প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট। তেশরা জানুয়ারি থেকে আমি এখানে অপহরিত অবস্থায় আছি"।
বিচারক তাৎক্ষণিকভাবে হস্তক্ষেপ করে জানান, এই অভিযোগ নিয়ে কথা বলার জন্য উপযুক্ত সময় ও জায়গা পরে আসবে।
মাত্র ৪০ মিনিটের এই সংক্ষিপ্ত শুনানিতে মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেজ তাদের বিরুদ্ধে আনা মাদক ও অস্ত্র সংশ্লিষ্ট সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। ভেনেজুয়েলার নিজস্ব কম্পাউন্ড থেকে মার্কিন বাহিনীর রাতভর চালানো এক বিশেষ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং সরাসরি নিউ ইয়র্কে এনে ফেডারেল হেফাজতে রাখা হয়।
পুরো শুনানিতে মাদুরোকে অদ্ভুত রকম শান্ত ও অভিব্যক্তিহীন দেখা গেছে। তিনি একটি হলুদ লিগ্যাল প্যাডে নোট নিচ্ছিলেন এবং বিচারকের কাছ থেকে সেটি নিজের কাছে রাখার অনুমতিও নেন। মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেজ ছিলেন তুলনামূলক নীরব। তার চোখ ও কপালে ব্যান্ডেজ দেখা গেছে। আইনজীবীদের দাবি, গ্রেপ্তারের সময় আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় তার এই অবস্থা হয়েছে।
শুনানি চলাকালে দর্শক সারি থেকে এক ব্যক্তি মাদুরোর শাস্তির দাবিতে চিৎকার করলে মাদুরো পাল্টা স্প্যানিশ ভাষায় নিজেকে "প্রেসিডেন্ট এবং যুদ্ধবন্দী" হিসেবে দাবি করেন।
মাদুরো ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র একাধিক গুরুতর অভিযোগ এনেছে, যার মধ্যে রয়েছে:
- মাদক ও সন্ত্রাসবাদের ষড়যন্ত্র।
- কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্র।
- মেশিনগান ও ধ্বংসাত্মক ডিভাইস রাখার ষড়যন্ত্র।
0 Comments