'দেশের অরাজক পরিস্থিতির জন্য এনসিপি ও জামায়াত দায়ী': সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া


সাবেক সংসদ সদস্য এবং বিএনপি নেত্রী সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া দেশের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য নব্য গঠিত রাজনৈতিক দল এনসিপি (NCP) এবং জামায়াতে ইসলামীকে সরাসরি দায়ী করেছেন। তার মতে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী অরাজক পরিস্থিতির মতো বর্তমানেও দেশে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে, যার মূলে রয়েছে এই দুটি সংগঠন।

পাপিয়া অভিযোগ করেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের 'গর্ভেই' এনসিপি নামক সংগঠনটির জন্ম হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ৫ আগস্টের পর ছাত্ররা ড. ইউনূস ছাড়া অন্য কাউকে সরকার প্রধান হিসেবে মেনে না নেওয়ার যে জেদ করেছিল, সেটি ছিল একটি 'সাজানো ও পাতানো' পরিকল্পনা। জনতা শেখ হাসিনার পলায়নের পর ঘরে ফিরে গেলেও একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী তিন দিন পর্যন্ত দেশকে সরকারহীন অবস্থায় রেখেছিল এবং পরে ড. ইউনূস দায়িত্ব গ্রহণ করেন

পাপিয়া অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন যে, জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি সম্মিলিতভাবে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকে মুক্তিযুদ্ধের সমান্তরাল বা একমাত্র যুদ্ধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তার মতে, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব যতদিন থাকবে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ কারো নেই

মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল বলেই আজকে আমরা স্বাধীনতা ভোগ করছি এবং রাজনৈতিক দল করার সুযোগ পাচ্ছি। এনসিপির সদস্যরা বয়সে তরুণ হওয়ায় তারা মুক্তিযুদ্ধ বা এরশাদ বিরোধী আন্দোলন দেখেনি, তাই তারা বর্তমান আন্দোলনকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে

পাপিয়া দাবি করেন, এনসিপি মূলত জামায়াতে ইসলামীরই এ, বি বা সি টিম হিসেবে কাজ করছে। তিনি সাংবাদিকদের তদন্ত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এনসিপির প্রার্থীদের মধ্যে অধিকাংশ সদস্যই কোনো না কোনোভাবে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাথে সম্পৃক্ত। তার মতে, জামায়াত এই নতুন দলটিকে 'নিরাপদ বিনিয়োগ' হিসেবে দেখছে এবং তাদের অর্থ ও নিরাপত্তা প্রদান করছে

জামায়াতের সাথে বিএনপির জোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি ছিল নিছকই ভোটের পরিসংখ্যান ও বাস্তবতার জোট। বেগম খালেদা জিয়ার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি কখনোই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করেনি, বরং বিচারের 'অস্বচ্ছতা' নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। অপরাধীকে অপরাধী বলা আর ত্রুটিপূর্ণ বিচার ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলা দুটি ভিন্ন বিষয় বলে তিনি উল্লেখ করেন

Post a Comment

0 Comments