মধ্যপ্রাচ্যে রণক্ষেত্রের উত্তাপ: ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিমুখী উত্তেজনা


মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রের উত্তাপ এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করেছে।

গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া মার্কিন ও ইসরায়েলি জোটের হামলায় ইরানে মৃতের সংখ্যা ১,০০০ ছাড়িয়ে গেছে। তেহরানের একটি হাসপাতালে চালানো হামলায় অসংখ্য বেসামরিক মানুষের পাশাপাশি নবজাতকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

ভারত মহাসাগরে একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে মার্কিন সাবমেরিন। এর পাল্টা জবাবে পারস্য উপসাগরে মার্কিন তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরান। কাতার ও বাহরাইনের আকাশসীমায় মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুঁড়ছে তেহরান।

ইরানের পক্ষ থেকে আসা অধিকাংশ হামলা তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে রুখে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় মার্কিন দূতাবাসের আশপাশের এলাকা থেকে সাধারণ বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এছাড়া যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে আরও ৫০ হাজার মার্কিন ও এক লাখ ইসরায়েলি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

ইরানে এমন ভয়াবহ হামলার পরও প্রতিবেশী দেশগুলো নীরব রয়েছে। বরং তারা নিজেদের আকাশ ও সমুদ্রপথ ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সহযোগিতা করছে।

সাইপ্রাসে ব্রিটিশ ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার পর নেটোভুক্ত দেশগুলো নড়েচড়ে বসেছে। তারা সাইপ্রাসের আশেপাশে তাদের নৌবহর মোতায়েন শুরু করেছে।

রাশিয়া ও চীন এই যুদ্ধকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। বেইজিং যুদ্ধবিরতির শর্তে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ সচল করার চেষ্টার কথা জানিয়েছে।

যুদ্ধের প্রভাবে ইরানের ভেতরেও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরকার জনগণকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানিদের বিদ্রোহ করার ডাক দিলেও তা অনেকাংশেই ব্যর্থ হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।

হামলা-পাল্টা হামলার এই চক্করে পুরো মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা বিশ্ব এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

Post a Comment

0 Comments