লেবাননে ইসরাইলি ট্যাঙ্কের ‘কবরস্থান’: ধ্বংস হলো ১০০টি আধুনিক মার্কাভা ট্যাঙ্ক


দক্ষিণ লেবাননকে গাজার মতো ধ্বংসস্তূপে পরিণত করার ইসরাইলি স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ও শক্তিশালী হিসেবে পরিচিত ইসরাইলি 'মার্কাভা' (Merkava) ট্যাঙ্ক বহরকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিচ্ছে লেবাননের সশস্ত্র প্রতিরোধ যোদ্ধারা। সামরিক বিশ্লেষকরা এই ঘটনাকে ‘মার্কাভা ম্যাসাকার’ বা ‘মার্কাভা হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করছেন।

ইসরাইলি বাহিনী (আইডিএফ) অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে যুদ্ধে নামলেও এখন পর্যন্ত তাদের গর্বের মোট ১০০টি মার্কাভা ট্যাঙ্ক হারিয়েছে। বিশেষ করে গত বুধবার মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে অন্তত ২১টি ট্যাঙ্ক ধ্বংস করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে এই সংখ্যা ১০০-এর ঘরে পৌঁছায়।

ইসরাইলের ট্রফি সিস্টেম যুক্ত এই শক্তিশালী ট্যাঙ্কগুলো ধ্বংস করতে লেবাননের যোদ্ধারা অত্যন্ত কৌশলী ও আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করছে:

আলমাস ও কর্নেট ক্ষেপণাস্ত্র: হামলা চালাতে যোদ্ধারা স্যাটেলাইট লেজার নির্দেশিত 'আলমাস' এবং 'কর্নেট ইএম' (Kornet-EM) এর মতো শক্তিশালী অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল ব্যবহার করছে।

কিল জোন (Kill Zone) তৈরি: ইসরাইলি আর্মড কনভয়গুলোকে কৌশলে সংকীর্ণ এলাকায় বা 'কিল জোনে' প্রবেশ করিয়ে সামনে, পেছনে এবং কেন্দ্রে একসাথে আক্রমণ চালিয়ে তাদের স্থবির করে দেওয়া হচ্ছে।
স্যাচুরেশন অ্যাটাক: একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র একত্রে ব্যবহার করে ইসরাইলি ট্যাঙ্কের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা 'ট্রফি সিস্টেম'-কে অকার্যকর করে দেওয়া হচ্ছে।

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী কার্টস লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে গাজা মডেলে একটি নিরাপত্তা অঞ্চল গড়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু লেবাননের যোদ্ধাদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে ইসরাইলের ফ্রন্ট লাইন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। গত ২৪ ও ২৬ মার্চ তাইবা, আল মুহাসিবাতসহ বিভিন্ন অঞ্চলে একের পর এক ট্যাঙ্ক ধ্বংসের মাধ্যমে এই প্রতিরোধের নজির স্থাপন করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ ইরান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেও লেবাননের এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি সাহসিকতার সাথে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, যা যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Post a Comment

0 Comments