ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ এখন বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০-৩০ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের জবাবে ইসলামি রেভুলেশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই পথটি বন্ধ করে রেখেছে। তবে ইরান সরকার চীন, ভারত ও তুরস্কের মতো নির্দিষ্ট কিছু দেশের জাহাজ চলাচলের জন্য সীমিত অনুমতি দিলেও পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য এটি সম্পূর্ণ বন্ধ।
হরমুজ প্রণালী অচল হয়ে পড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণভাবে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে:
- জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি: যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের দাম প্রায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
- মিত্রদের প্রত্যাখ্যান: প্রণালীটি সচল করতে ট্রাম্প ন্যাটো মিত্রদের কাছে যুদ্ধজাহাজ ও সহায়তা চাইলেও ইউরোপীয় মিত্রসহ অধিকাংশ দেশই তাতে সাড়া দেয়নি।
- ট্রাম্পের দাবি ও বাস্তবতা: ট্রাম্প দাবি করছেন যুক্তরাষ্ট্রের পর্যাপ্ত তেল মজুদ আছে, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন জ্বালানির দাম বিশ্ববাজারের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তিনি কার্যত চাপের মুখে রয়েছেন।
ইরান হরমুজ প্রণালীকে তাদের প্রধান 'তুরুপের তাস' হিসেবে ব্যবহার করছে। মিত্রদের সহযোগিতা না পাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে যেমন আন্তর্জাতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে নিজ দেশেও অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন। হরমুজ প্রণালী শেষ পর্যন্ত কবে সচল হবে বা ট্রাম্প আদৌ তা করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে।
0 Comments