দুবাইয়ে ইরানের ভয়াবহ প্রতিশোধ: জ্বলছে তেল টার্মিনাল, আতঙ্কে আমিরাত


ইরানের তেলের প্রাণকেন্দ্র খারক দ্বীপে মার্কিন হামলার কঠোর প্রতিশোধ নিল তেহরান। গত রাতে দুবাই মেরিনা, আল সুফো অঞ্চল এবং ফুজাইরা তেল টার্মিনালে একের পর এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এই পরিকল্পিত হামলাকে ইরানের পক্ষ থেকে 'মোস্তবা খামেনির প্রতিশোধ' হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

গত সপ্তাহে ইরানের খারক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অভিযোগ করেন, এই হামলায় আমিরাতের দুটি ঘাঁটি ব্যবহার করা হয়েছিল। এর পরপরই ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, তাদের ঘরে আগুন জ্বালানো হলে পুরো অঞ্চলে সেই শিখা ছড়িয়ে পড়বে।

ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আমিরাতের দিকে এ পর্যন্ত ১৮০০-এর বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • ১৬০০টি ড্রোন
  • ২৯৪টি ব্যালিস্টিক মিসাইল
  • ১৫টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র

দুবাইয়ের আকাশে এখনো কালো ধোঁয়া উড়ছে এবং ফুজাইরা তেল টার্মিনালের আগুন নেভানোর কাজ চলছে। আমিরাত এই হামলার তীব্র নিন্দা জানালেও সংঘাত আর বাড়াতে চায় না বলে জানিয়েছে। দেশটির বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আমেরিকার ওপর অতি-নির্ভরশীলতা তাদের এই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে।

এই হামলার পর সৌদি আরব, কাতার এবং কুয়েতের মতো প্রতিবেশী দেশগুলো নীরব ভূমিকা পালন করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নীরবতা ইরানের শক্তির প্রতি এক ধরণের মৌন স্বীকৃতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে ইরানের প্রধান শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার ইঙ্গিত।

ইরানি সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, এই হামলা আমিরাত ও আমেরিকার জন্য একটি বড় বার্তা—আমেরিকার 'ঢাল' আর তাদের রক্ষা করতে পারবে না।

Post a Comment

0 Comments