ইরানের অভ্যন্তরীণ আধাসামরিক বাহিনী বাসিজ-এর কমান্ডার গোলামরেজা সোলাইমানিকে হত্যার কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করার পর ইরানের পক্ষ থেকে এই কড়া হুঁশিয়ারি আসে। বুধবার (১৮ মার্চ) ইরানের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন বার্তায় এই প্রতিজ্ঞা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেন যে, তারা ইরানের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা আলী লারিজানি এবং বাসিজ কমান্ডার গোলামরেজা সোলাইমানিকে এক অভিযানে নির্মূল করেছেন। ইসরায়েল এই ঘটনাকে তাদের একটি বড় কৌশলগত সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করছে।

ভিডিও প্রতিবেদন ও তেহরানের বার্তা অনুযায়ী, ইরান তাদের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ব্যক্তিত্বকে হারানোর ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) এবং সরকারি বিভিন্ন সংস্থা থেকে বলা হয়েছে যে, এই হত্যাকাণ্ডের ‘রক্তের বদলা’ নেওয়া হবে।

ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসরায়েল যে ধরনের আগ্রাসন চালাচ্ছে, তার পরিণাম তাদের ভোগ করতে হবে। বাসিজ কমান্ডারের মৃত্যুতে ইরান কেবল শোকাহত নয়, বরং তারা এই ঘটনাকে তাদের প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার একটি মাধ্যম হিসেবে দেখছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সোলাইমানি হত্যার এই দাবি এবং ইরানের পাল্টা হুমকির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এক নতুন এবং ভয়াবহ মোড় নিতে পারে। বিশেষ করে ইরানের ভেতরে তেহরান ছাড়াও ইসফাহান, শিরাজ এবং আহভাজ-এর মতো শহরগুলোতে ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলা অব্যাহত থাকার খবরের মাঝেই তেহরানের এই কঠোর বার্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে।

ইরান এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না করলেও তাদের প্রতিশোধমূলক বক্তব্য এবং কঠোর ভাষা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।