অকেজো হয়ে লোহিত সাগর ছাড়ছে মার্কিন রণতরী 'জেরাল্ড ফোর্ড': চরম বিপাকে ৪০০০ নাবিক


দীর্ঘ ৯ মাস সাগরে অবস্থানের পর বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি ও অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয়ে যুদ্ধক্ষেত্র ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ মার্কিন রণতরী 'ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড'। ১৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের এই গর্বের যুদ্ধজাহাজটি ইরান যুদ্ধে বিশেষ কোনো ভূমিকা রাখতে না পেরে এখন গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের দিকে যাত্রা করেছে।

রয়টার্সের তথ্যমতে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে রণতরীটির লন্ড্রি এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রায় ৩০ ঘণ্টা ধরে জ্বলা এই আগুনে জাহাজের ১০০টি বিছানা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনের ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়া প্রায় ২০০ নাবিককে চিকিৎসা দিতে হয়েছে। এর মধ্যে একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বিমানে করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।


দীর্ঘদিন সাগরে থাকায় সাড়ে চার হাজার নাবিকের মনোবল ভেঙে পড়েছে। এছাড়া জাহাজের পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থা অকেজো হয়ে পড়ায় নাবিকদের টয়লেটে যাওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে, যা চরম অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে।

সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার এই পরিস্থিতির জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের "বেপরোয়া সামরিক সিদ্ধান্তকে" দায়ী করেছেন। তিনি জানান, প্রায় এক বছর সমুদ্রে রেখে নাবিকদের চরম সংকটের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেরাল্ড ফোর্ডে এফ-১৮ সুপার হর্নেটসহ ৭৫টি যুদ্ধবিমান এবং অত্যাধুনিক রাডার ব্যবস্থা রয়েছে। এর সাথে মিসাইল ক্রুজার ও ধ্বংসকারী জাহাজ থাকলেও বর্তমানে এটি "সহ্যসীমার চূড়ান্ত পর্যায়ে" রয়েছে বলে এক সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

জেরাল্ড ফোর্ড ফিরে আসায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীতে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হচ্ছে। এই ঘাটতি পূরণে এখন অন্য একটি বিমানবাহী রণতরী 'ইউএসএস জর্জ এইচডব্লিউ বুশ' মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে আমেরিকা।

লোহিত সাগরে ঢাকঢোল পিটিয়ে আনা এই রণতরীটি ইরান যুদ্ধে কার্যকর হতে না পারা এবং নাবিকদের অভ্যন্তরীণ সংকট মার্কিন সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।

Post a Comment

0 Comments