ইরানের বিধ্বংসী হামলায় কাঁপছে ইসরাইল: লারিজানি হত্যার প্রতিশোধে ১০০ স্থানে আঘাত


ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইসরাইল জুড়ে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার রাতে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ইসরাইলের অন্তত ১০০টি লক্ষ্যবস্তুতে ক্লাস্টার বোমা ও শক্তিশালী মিসাইল দিয়ে এই হামলা চালায়।

ইরানের এই হামলায় বিশেষ করে তেল আবিব শহর ও এর আশপাশের এলাকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা 'অপারেশন ট্রু প্রমিস ফোর'-এর অংশ হিসেবে এই হামলা চালিয়েছে। হামলায় খোররামশহর-৪, কাদর এবং খাইবার শেকান মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছে, যা ইসরাইলের উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।

হামলায় এখন পর্যন্ত ১৪ জন ইসরাইলির মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে শুধু তেল আবিবেই দুইজন প্রাণ হারিয়েছেন। অসংখ্য ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, রাস্তায় বড় বড় গর্ত ও ফাটল তৈরি হয়েছে এবং অনেক যানবাহন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। হামলার পরপরই তেল আবিবের একটি বড় অংশ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে, যা উদ্ধারকাজে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটায়।

তেল আবিব ছাড়াও অধিকৃত আল-কুদস (জেরুজালেম), হাইফা বন্দর, প্রযুক্তি কেন্দ্র বীরশেবা এবং নেগেভ মরুভূমির কৌশলগত সামরিক ও নিরাপত্তা স্থাপনাগুলোতে ইরান আঘাত হেনেছে বলে দাবি করেছে। আইআরজিসি-র মতে, এই হামলার মাধ্যমে জায়নবাদী শাসনের বহুস্তরীয় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

শুধু ইসরাইল নয়, ইরান মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতেও তীব্র আঘাত হেনেছে। কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত এবং সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলো এই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আয়াতুল্লাহ আলী খামিনীর মৃত্যুর পর আলী লারিজানি ছিলেন ইরানের অন্যতম শীর্ষ নেতা। তাকে হত্যার পর ইরান যে এমন কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাবে, তা ইসরাইলের কল্পনার বাইরে ছিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Post a Comment

0 Comments