ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে লণ্ডভণ্ড মার্কিন প্রতিরক্ষা: অকেজো বিলিয়ন ডলারের ‘থাড’ রাডার


মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাতের আবহে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ইরানের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অকেজো হয়ে পড়েছে বিলিয়ন ডলার মূল্যের মার্কিন ‘থাড’ (THAAD) রাডার সিস্টেম। সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গের বরাত দিয়ে মার্কিন এক কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন, যা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক সক্ষমতাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, হাজার মাইল দূরের শত্রু শনাক্ত করতে সক্ষম মার্কিন রাডারগুলো এখন ইরানের পাল্টা আঘাতে অকেজো। কাতারের এফপিএস-১৩২ রাডার ধ্বংসের পর এবার জর্ডানে থাকা অত্যন্ত শক্তিশালী ‘থাড’ ব্যবস্থাকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রের ‘চোখ’ হিসেবে পরিচিত এই রাডারগুলো অন্ধ হয়ে যাওয়ায় কেবল মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যূহতে ছিদ্র তৈরি হয়নি, বরং মিত্র দেশগুলোর কাছে মার্কিন নিরাপত্তার নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি এবং থিংক ট্যাংক ‘ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অফ ডেমোক্রেসিস’-এর তথ্য অনুযায়ী:

  • প্রথম হামলা: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি জর্ডানে প্রথম হামলা চালায় ইরান।
  • দ্বিতীয় হামলা: এরপর ৩ মার্চ পুনরায় হামলা চালিয়ে থাড ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়।
  • বিপুল আর্থিক ক্ষতি: প্রতিটি থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দাম প্রায় ১০০ কোটি ডলার, যার মধ্যে শুধুমাত্র রাডারটির দামই ৩০ কোটি ডলার। সারা বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মাত্র আটটি এমন উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের নিরবচ্ছিন্ন ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে লকিং মার্টিন ও আরডিএ-র মতো বড় প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর সাথে বৈঠক করেছে মার্কিন প্রশাসন। দ্রুত অস্ত্র উৎপাদন বাড়াতে পেন্টাগন থেকে বিশেষ চাপ দেওয়া হচ্ছে।

ইরানের এই নিখুঁত হামলা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্য ও তাদের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির শ্রেষ্ঠত্বকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

Post a Comment

0 Comments