কক্সবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে চার বছরের সন্তানকে চিকিৎসা করাতে এসে নিখোঁজ হওয়া কোহিনূর আক্তার (৩৫) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের তিন দিন পর শনিবার (৭ মার্চ) হাসপাতালের লিফটের গ্রাউন্ড ফ্লোর থেকে তার পচা-গলা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত কোহিনূর আক্তার কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের দক্ষিণ ডেলপাড়ার বাসিন্দা এবং কাতার প্রবাসী নুরুল ইসলামের স্ত্রী। গত ৪ মার্চ তিনি তার চার বছর বয়সী সন্তানের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসেছিলেন। ওই দিন দুপুরে তিনি হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান। স্বজনরা ভেবেছিলেন তিনি হয়তো সন্তানকে রেখে কোথাও চলে গেছেন, কিন্তু অনেক খুঁজেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
শনিবার সকালে হাসপাতালের লিফট ও এর আশপাশে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ ছড়ালে সাধারণ মানুষ ও কর্তৃপক্ষ গন্ধের উৎস খুঁজতে শুরু করে। এক পর্যায়ে লিফটের গ্রাউন্ড ফ্লোরের নিচের অংশে (পিট) কোহিনূরের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস এসে মরদেহটি উদ্ধার করে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সরবরাহ করা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ৪ মার্চ দুপুরে কোহিনূর আক্তার হাসপাতালের চারতলায় লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সে সময় লিফটি পাঁচতলায় অবস্থান করছিল। কোহিনূর কয়েকবার লিফটের বাটন চাপেন এবং এক পর্যায়ে ম্যানুয়ালি লিফটের দরজা খোলার চেষ্টা করেন।
লিফটের দরজায় ত্রুটি থাকায় সেটি খুলে যায়। ভেতরে অন্ধকার থাকা সত্ত্বেও লিফটের বগি না আসতেই কোহিনূর পা বাড়ান এবং সরাসরি চারতলা থেকে কয়েকশ ফুট নিচে আছড়ে পড়েন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে একটি দুর্ঘটনা হিসেবে দেখছে। পুলিশ জানিয়েছে, লিফট ওপরে থাকা অবস্থায় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দরজা খুলে যাওয়ায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে নিহতের স্বজনরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম অব্যবস্থাপনা এবং লিফটের ত্রুটিকে এই মৃত্যুর জন্য দায়ী করেছেন। তারা অভিযোগ করেন, ৪ তারিখ নিখোঁজ হওয়ার পর সিসিটিভি ফুটেজ চেক করতে দেরি করা হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি আরও খতিয়ে দেখার এবং তদন্ত করার আশ্বাস দিয়েছে।
0 Comments