মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র এখন এক চরম উত্তেজনার শিখরে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে রোববার মধ্যরাত থেকে ইরানের ওপর শুরু হয়েছে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ বিমান হামলা। তেহরানের প্রধান প্রধান তেল শোধনাগার এবং জ্বালানি ভান্ডারগুলোকে লক্ষ্য করে এই অপারেশন চালানো হচ্ছে।
মার্কিন ও ইসরায়েলি জোটের দাবি, ইরানকে সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দিতেই এই কৌশলগত হামলা চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে ইরানের তেল শোধনাগারগুলোকে ধ্বংস করার মাধ্যমে তাদের আয়ের উৎস বন্ধ করা এবং হিজবুল্লাহর মতো গোষ্ঠীগুলোকে দেওয়া মদদ রুখে দেওয়াই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, এই অভিযানের উদ্দেশ্য ইরানকে ‘সৈরাচারমুক্ত’ করা।
তেহরানের অভিযোগ, হামলাকারীরা কেবল সামরিক স্থাপনা নয়, বরং পানি লবণমুক্ত করার প্ল্যান্ট এবং এমনকি অ্যাম্বুলেন্সের ওপরও গোলাবর্ষণ করেছে। হামলার পরিধি লেবানন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। সেখানে একটি হোটেলে চালানো হামলায় ৪ জনসহ মোট ৪১ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
তেহরানের আকাশে লাল-কালো আভা দেখা যাচ্ছে এবং ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো প্রায় ধ্বংসের পথে।
অস্তিত্ব রক্ষার এই লড়াইয়ে ইরানও দমে যেতে নারাজ। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC) হাইফার তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। দেশটির শীর্ষ নেতা আলী লারিঞ্জানি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, খামেনিীসহ ১,০০০ মানুষের হত্যার প্রতিশোধ ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দিতে হবে। ইরান আরও জানিয়েছে যে, যেসব দেশ মার্কিন জোটকে তাদের আকাশসীমা বা ভূমি ব্যবহার করতে দিয়ে সহায়তা করবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
মার্কিন সংবাদ মাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, প্রায় ৭০ শতাংশ আমেরিকান এই যুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান করছেন। এরই মধ্যে কুয়েতে নিহত ছয় মার্কিন সেনার মরদেহ যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছে।
কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তেল ট্যাংকারে হামলার পর দেশটি তেল উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। সৌদি আরবের আকাশেও ১৫টির বেশি ইরানি ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে রিয়াদ।
ইসরায়েল ও আমেরিকার পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে তারা ইরানকে ‘মুক্ত’ করতে চায়, অন্যদিকে ইরান এটিকে দেখছে তাদের ‘অস্তিত্বের লড়াই’ হিসেবে। পাল্টাপাল্টি এই অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে যাবে নাকি বিশ্ব রাজনীতিতে কোনো বড় পরিবর্তন আসবে, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষায় পুরো বিশ্ব।
0 Comments