বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তীব্র অভ্যন্তরীণ সংকটে পড়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে না পেরে রাঙ্গামাটি জেলা কমিটির সাতজন শীর্ষ নেতা দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ে, যা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।রাঙ্গামাটি জেলা শাখা থেকে পদত্যাগ করা নেতাদের মধ্যে রয়েছেন:
- যুগ্ম সদস্য সচিব উজ্জ্বল চাকমা
- সাংগঠনিক সম্পাদক দিপাকর চাকমা
- মিশন চাকমা
- সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক উষাপ্রু মারমা
- দপ্তর সম্পাদক প্রণয় বিকাশ চাকমা
- সদস্য বিনয় চাকমা ও সুলেখা চাকমা।
পদত্যাগকারী নেতারা তাদের লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন যে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা থেকে এনসিপি বিচ্যুত হয়েছে। তাদের অভিযোগ, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপি তার স্বতন্ত্র আদর্শ ছুড়ে ফেলে একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট গঠন করেছে।
উজ্জ্বল চাকমা তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিটকে ধারণ করে দলটি আমার কাছে বহুমাত্রিক মনে হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের আগে স্বতন্ত্র আদর্শ থেকে সরে গিয়ে জোটের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আমি আর এই দলে থাকতে পারছি না”।
এ বিষয়ে এনসিপি রাঙ্গামাটি জেলা কমিটির আহ্বায়ক বিপিন জ্যোতি চাকমা জানিয়েছেন, তিনি গণপদত্যাগের বিষয়ে এখনও কোনো লিখিত আবেদন পাননি। তবে কেন এমনটি ঘটছে তা তারা খতিয়ে দেখবেন বলে জানান।
উল্লেখ্য যে, এর আগেও ডক্টর তাসনিম যারা এবং সামান্তা শারমিনের মতো পরিচিত মুখগুলো এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। নতুন করে এই গণপদত্যাগ দলের ভেতরে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগে এমন ভাঙন এনসিপির রাজনৈতিক প্রভাব ও কার্যকারিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। জুলাই বিপ্লবের আদর্শ নিয়ে গঠিত হওয়া দলটি কি শেষ পর্যন্ত নিজের অস্তিত্ব হারিয়ে কোনো বড় দলের বৃত্তে মিশে যাবে, নাকি পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে পারবে—সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।
0 Comments