টানা ১২ দিন ধরে নজিরবিহীন বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইরান। দেশের ৩১টি প্রদেশের শতাধিক শহরে ছড়িয়ে পড়া এই আন্দোলনে এ পর্যন্ত অন্তত ৩৪ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্দোলন দমাতে পুরো দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দিয়েছে আয়তুল্লাহ খামেনী প্রশাসন।
মূলত মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের রেকর্ড দরপতনের প্রতিবাদে গত ডিসেম্বরে তেহরানের ব্যবসায়ীরা প্রথম রাজপথে নামেন। তবে পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও তরুণরা এতে যোগ দিলে তা বিশাল গণআন্দোলনে রূপ নেয়। নিষেধাজ্ঞা, সরকারি অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে ইরানের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে ।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানী তেহরানের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি-র সংলগ্ন ভবনে হামলা চালায়। আন্দোলনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, বিক্ষোভকারীরা কুদস ফোর্সের সাবেক প্রধান কাশেম সোলাইমানীর বিশাল বিলবোর্ডে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় তারা সর্বোচ্চ নেতা খামেনীর বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি নির্বাসিত শাহের পুত্র রেজা পাহলভীকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানায়।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেকশিয়ান এক বিবৃতিতে বিক্ষোভ মোকাবিলায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন এবং জবরদস্তি এড়িয়ে জনগণের কথা শোনার পরামর্শ দিয়েছেন।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের এই পরিস্থিতিতে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন, যদি ইরান সরকার বিক্ষোভকারীদের ওপর হত্যাযজ্ঞ শুরু করে, তবে ওয়াশিংটন ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপ করতে দ্বিধা করবে না। ট্রাম্পের ভাষায়, "আমরা তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি, মানুষ হত্যা করলে আমরা কঠোরভাবে আঘাত করব"।
ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় ইরানের ভেতরকার অনেক তথ্যই বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই আন্দোলন ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর জন্য গত কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
0 Comments