শরীয়তপুর জেলা শহরের চৌরঙ্গী এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এবং এনসিপি সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ সন্ধ্যা ৬টার দিকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে ককটেলের আঘাতে ছাত্রদলের অন্তত ৩ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে এনসিপি সমর্থকরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে ডিসি অফিসের দিকে যাচ্ছিল। এসময় মোটরসাইকেলযোগে যাওয়ার পথে একজন ছাত্রদল কর্মীর সাথে এনসিপি সমর্থকদের বাগবিতণ্ডা হয়। ছাত্রদলের অভিযোগ, তাদের কর্মীকে এনসিপি সমর্থকরা লাঞ্ছিত ও মারপিট করে। এর প্রতিক্রিয়ায় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা সংগঠিত হয়ে চৌরঙ্গী এলাকায় অবস্থান নিলে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
প্রায় ৪০ মিনিট স্থায়ী এই সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কিছু হাতবোমা বা ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে স্বর্ণগর সড়কের মুখে মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
ককটেলের আঘাতে আহত ছাত্রদলের ৩ নেতাকর্মীর মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালে আরও দুইজন নেতাকর্মী এবং একজন সাধারণ পথচারী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সংঘর্ষের শুরুতে পুলিশের সংখ্যা কম থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হয়। পরবর্তীতে সন্ধ্যা ৬:৪০ মিনিটের দিকে পুলিশ লাইন্স থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। বর্তমানে পুলিশ দুই পক্ষের মাঝামাঝি অবস্থানে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে।
এলাকার দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো আতঙ্কে বন্ধ হয়ে গেলেও বর্তমানে কিছু দোকান পুনরায় খুলতে শুরু করেছে। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাঈদ আহমেদ আসলাম হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজ নিয়েছেন এবং নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি টহল ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
0 Comments