সম্প্রতি প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট এবং উদীচীর ওপর হামলার ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে ডা. জাহেদ উর রহমান এক নতুন ধরণের ফ্যাসিবাদের উত্থান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, বিগত সরকারের ফ্যাসিবাদ সরাতে গিয়ে আমরা নিজেরাও ফ্যাসিবাদী আচরণ করছি।
ডা. জাহেদ উর রহমান সম্প্রতি মিডিয়া হাউজগুলোর ওপর হওয়া হামলাকে 'মব' বা জনরোষ বলতে নারাজ। তার মতে, মব সাধারণত তাৎক্ষণিক এবং অনিয়ন্ত্রিত হয়। কিন্তু প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের ওপর হওয়া হামলাগুলো ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। তিনি অভিযোগ করেন যে, এই হামলার সময় পুলিশ এবং সেনাবাহিনী নিষ্ক্রিয় ছিল এবং ফায়ার সার্ভিসকেও আসতে বাধা দেওয়া হয়েছে, যা থেকে বোঝা যায় সরকারের কোনো একটি অংশ হয়তো চেয়েছিল এই ঘটনাগুলো ঘটুক।
তিনি আরও বলেন, ছাত্রশিবিরের কিছু নেতার বক্তব্য এবং বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের (influencers) মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে সমাজে ঘৃণা ছড়ানো হয়েছে। ডা. জাহেদ মন্তব্য করেন, "আমরা মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও আদতে নিজেদের ভেতরে ফ্যাসিবাদী চিন্তা পোষণ করি। আমার যে পত্রিকা ভালো লাগে না, সেটি জ্বালিয়ে দিতে হবে বা তার সম্পাদককে গ্রেপ্তার করতে হবে—এটিই ফ্যাসিবাদের বহিঃপ্রকাশ"।
৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়কে একটি গোষ্ঠী 'বিপ্লব' হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে। ডা. জাহেদের মতে, এটিকে বিপ্লব বলার পেছনে একটি গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। একটি গোষ্ঠী চেয়েছিল সংবিধান বাতিল করে বিপ্লবী সরকারের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে। যারা এই সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার পক্ষে কথা বলছে বা নির্বাচনে যেতে চাচ্ছে, তাদেরকেই বর্তমানে শত্রু হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে এবং এই কারণেই মিডিয়া হাউজগুলো আক্রমণের শিকার হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রথম আলো বা ডেইলি স্টারের সম্পাদকীয় নীতিতে ভুল থাকতে পারে বা তাদের সাথে মতাদর্শগত পার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু সেজন্য গায়ের জোরে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া বা ঘৃণা ছড়ানো কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক সমাধান নয়।
0 Comments