খুলনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বিভাগীয় কমিটির আহ্বায়ক এবং শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক মোহাম্মদ মোতালেব শিকদার গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে রাজনৈতিক সহিংসতা হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করা হলেও পুলিশের তদন্তে এর পেছনে মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
গত ২২ ডিসেম্বর খুলনার সোনাডাঙ্গা এলাকার আল আকসা মসজিদ সরণির 'মুক্তা হাউজ' নামক একটি ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাটে এই গুলির ঘটনা ঘটে।
ঘটনার শুরুতেই এটিকে জুলাই যোদ্ধাদের ওপর পরিকল্পিত হামলা দাবি করে রাজনৈতিক রং দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পুলিশের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এটি রাজনৈতিক কোনো ঘটনা নয়। পুলিশ জানায়, যে বাসায় মোতালেব শিকদার গুলিবিদ্ধ হন, সেখানে রাতভর ইয়াবা সেবন, মদ্যপান এবং নারী নিয়ে ফুর্তি চলছিল।
গত ১ নভেম্বর তন্নি নামে এক তরুণী এনজিও কর্মী পরিচয় দিয়ে এবং ভুয়া স্বামী-স্ত্রী সেজে ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন, যা মূলত মোতালেব শিকদারের অসামাজিক কর্মকাণ্ডের আখড়া হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মোতালেব শিকদার ও তার দুই সহযোগী ওই বাসায় যান। সেখানে মাদক সেবন ও অসামাজিক কার্যকলাপ চলাকালে নিজেদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয় এবং সোমবার সকাল ৯টার দিকে তারই কোনো সহযোগী তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। মোতালেব শিকদার মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নিজের অপরাধ ঢাকতে মোতালেব শিকদার ঘটনাটি রাস্তার ওপর সন্ত্রাসীদের হামলা বলে চালানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ মাদকদ্রব্য এবং অসামাজিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করেছে।
বাড়ির মালিক জানিয়েছেন, ডিসেম্বর মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে বাসাটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য তন্নিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কারণ সেখানে প্রতিনিয়ত অনেক পুরুষের আনাগোনা ছিল। ঘটনার পর থেকেই তন্নি পলাতক রয়েছেন।
এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত মোতালেব শিকদারের পরিবার বা দলীয় নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
0 Comments