যশোরে চিকিৎসকের ছদ্মবেশে ক্লিনিক মালিকের অস্ত্রোপচার: ভয়ঙ্কর প্রতারণার চিত্র


যশোরের চৌগাছা উপজেলায় 'পল্লবী ক্লিনিক' নামক একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসার নামে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। কোনো স্বীকৃত ডিগ্রি ছাড়াই ক্লিনিক মালিক নিজেই অস্ত্রোপচার করছেন এবং ভুয়া চিকিৎসকদের দিয়ে হাসপাতালটি চালানো হচ্ছে।

ক্লিনিকের মালিক মিজানুর রহমান নিজেকে আরএমপি ডাক্তার পরিচয় দিয়ে কোনো ধরনের সার্জারি ডিগ্রি ছাড়াই জটিল অস্ত্রোপচার পরিচালনা করেন। অভিযোগ রয়েছে, সামান্য পেট ব্যথা হলেও কোনো বাছবিচার না করে তিনি রোগীদের অ্যাপেন্ডিসাইটিস অপারেশন করিয়ে দেন।

ক্লিনিকটিতে ভুয়া ডাক্তার, পল্লী চিকিৎসক ও ডিএমএফ ডিগ্রিধারীরা রোগী দেখছেন। এমনকি ডিএমএফ পরিচয়দানকারী এক ব্যক্তি (তুহিন হোসেন) নিজের ডিগ্রির পূর্ণরূপ এবং বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন নম্বরও বলতে পারেননি। এছাড়া উচ্চতর ডিগ্রি না থাকা সত্ত্বেও বেশ কয়েকজন চিকিৎসক নিজেদের গাইনি সার্জন পরিচয় দিয়ে সিজারসহ স্পর্শকাতর অপারেশন করছেন।

স্থানীয় প্রভাবশালী এবং চৌগাছা পৌরসভার বাজার পরিদর্শক মুকুরুল ইসলাম মিন্টু এই ক্লিনিকটির যাবতীয় অপকর্মের ঢাল হিসেবে কাজ করছেন। ইতিপূর্বে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হলেও তার প্রভাবে দোষীরা পার পেয়ে গেছেন।

সম্প্রতি এক রোগীর অ্যাপেন্ডিসাইটিস হয়েছে বলে তড়িঘড়ি করে অপারেশনের জন্য ওটিতে নেওয়া হয়। পরে অন্য হাসপাতালে পরীক্ষা করলে দেখা যায় তার সমস্যাটি ছিল সামান্য গ্যাস্ট্রিকের। এছাড়া এর আগেও এক ভুয়া ডাক্তারকে জরিমানা ও জেল দেওয়া হলেও প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে তিনি দ্রুত ছাড়া পেয়ে যান।

বিএমডিসি আইন অনুযায়ী এমবিবিএস বা বিডিএস ডিগ্রি ছাড়া কেউ ডাক্তার পদবি ব্যবহার বা চিকিৎসা দিতে পারবে না বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন। তিনি তদন্ত সাপেক্ষে পল্লবী ক্লিনিক বন্ধ করার মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

যশোর জেলা শহর থেকে দূরে অবস্থিত এই এলাকায় সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সীমাবদ্ধতাকে পুঁজি করে পল্লবী ক্লিনিকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে এই বিপজ্জনক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

Post a Comment

0 Comments