দীর্ঘদিনের সামরিক সংঘাত, অবরোধ ও চরম উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযান ও অবরোধের মুখে ইরানের দীর্ঘদিনের অটল প্রতিরোধ ও কূটনৈতিক অবস্থানের ফলেই এই যুদ্ধ বিরতির সিদ্ধান্ত এসেছে বলে জানা গেছে।
এই ঐতিহাসিক চুক্তির খবরটি প্রথম বিশ্ববাসীর সামনে আনেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ। সোমবার ভোররাতে তিনি দুই দেশের মধ্যে সফল মধ্যস্থতা সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ট্রাম্প তার বার্তায় অবিলম্বে ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নৌবাহিনীর আরোপিত সব অবরোধ তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং হরমুজ প্রণালীকে সম্পূর্ণ টোলমুক্তভাবে উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো এই চুক্তিকে তেহরান এবং ‘রেজিস্টেন্স ফ্রন্ট’-এর একচেটিয়া সামরিক ও কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে প্রচার করছে। ইরানের ডেপুটি ফরেন মিনিস্টার কাজেম গারিবাদীর বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত এবং এর আওতায় লেবাননসহ সব ফ্রন্টেই মার্কিন ও ইসরাইলি সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী, আমেরিকা শুধু অবরোধই তুলে নিচ্ছে না, বরং ইরানের আটকে রাখা ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সম্পদও ফেরত দিতে বাধ্য হচ্ছে।
এই চুক্তির ফলে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে তেল আবিব। ইসরায়েল ইতিমধ্যে এই চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে জানিয়েছে যে তারা এর অংশ নয়। লেবাননে হামলা কমানোর মার্কিন চাপের কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে একে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে অভিনন্দন জানান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই চুক্তির আওতায় অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হবে এবং পরবর্তী আলোচনার জন্য একটি শক্তিশালী কাঠামো তৈরি হবে।
নিষেধাজ্ঞা আর সামরিক হুমকির মুখেও ইরানের অটল অবস্থান এবং পরাশক্তি আমেরিকার এই চুক্তির টেবিলে আসা বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের জন্ম দিল।
0 Comments