দুবাইয়ে এআই ক্যামেরায় ধরা পড়লেন বেনজীর: ৩০ দিনের মধ্যে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু


দুদকের দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অত্যাধুনিক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) ভিত্তিক ফেস রিকগনিশন ক্যামেরার প্রযুক্তির সহায়তায় তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়। ইন্টারপোলের রেড নোটিশের সূত্র ধরে দুবাই পুলিশ এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বেনজীর আহমেদ লন্ডন থেকে এশিয়ার একটি দেশের (সিঙ্গাপুর বা থাইল্যান্ড) উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রানজিট নেওয়ার সময় তিনি সাধারণ যাত্রীদের মতোই ইমিগ্রেশন ও নিরাপত্তা বলয়ের মুখোমুখি হন। সে সময় বিমানবন্দরের অত্যাধুনিক এআই ক্যামেরা তার মুখমণ্ডল স্ক্যান করে এবং তা আন্তর্জাতিক অপরাধীদের তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে। বেনজীর আহমেদের নামে ইন্টারপোলের সতর্কতা সংকেত (নোটিশ) সামনে আসায় তাৎক্ষণিকভাবে দুবাই পুলিশের ইন্টারপোল সমন্বয়ক শাখা বিষয়টি যাচাই করে এবং তাকে আটক করে। পরবর্তীতে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়

গত ১২ জুন ২০২৬ তারিখে সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি থেকে পাঠানো একটি ইমেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়। রোববার (১৪ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ এই তথ্য দেশবাসীকে অবহিত করেন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফেডারেল আইন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ বা 'এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট' পাঠাতে হবে। বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে সেই আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক এক্সট্রাডিশন প্রপোজাল প্রস্তুত ও অনুমোদন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী

এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক আখতারুল ইসলাম জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বেনজীর আহমেদকে দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের একটি মামলায় ইতোমধ্যে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে এবং সেটির বিচার কাজ (ট্রায়াল) চলছে। এ ছাড়া পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ আরও পাঁচটি মামলার তদন্ত কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে

Post a Comment

0 Comments