রামিছা হত্যাকাণ্ড: ফাঁসি নয়, ধর্ষক-হত্যাকারীকে প্রকাশ্যে পাথর ছুঁড়ে মারার দাবি সাধারণ মানুষের


রামিছা নামের এক শিশুকে নির্মমভাবে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে
। আন্দোলনকারীদের মতে, দেশে দীর্ঘ সময় ধরে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলার কারণে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে এবং নতুন নতুন অপরাধ করতে উৎসাহিত হচ্ছে। অতীতে সংঘটিত আছিয়া, তৈয়বা, সামা বা ময়না আক্তার হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনাগুলোর দৃষ্টান্তমূলক বিচার সময়মতো হলে আজ রামিছাকে এভাবে হারাতে হতো না বলে সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেন

বিক্ষুব্ধ জনতা এই জঘন্য অপরাধের জন্য প্রচলিত ফাঁসির সাজার বিরোধিতা করেছেনতাদের মতে, ফাঁসি বা গলায় দড়ি দিয়ে মৃত্যু একটি সাধারণ বা স্বাভাবিক মৃত্যুর মতো, যা অপরাধীর জন্য কোনো প্রকৃত সাজা নয়। তারা দাবি জানান, অপরাধীকে যেন প্রকাশ্যে নিয়ে এসে ইসলামিক আইন অনুযায়ী মাটিতে পুঁতে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে পাথর নিক্ষেপ করে কিংবা কুচি কুচি করে কেটে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এমন নৃশংস শাস্তি সচক্ষে দেখলে পরবর্তী সময়ে আর কোনো পুরুষ এমন অপরাধ করার সাহস পাবে না বলে তারা মনে করেন

আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পরও কেন মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এক মাস বা ঈদের পর পর্যন্ত সময় নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনায় সহযোগিতাকারী হিসেবে অভিযুক্তের স্ত্রীকেও সমান শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়

অপরাধী ব্যক্তিটি ‘ইয়াবা’ নামক মরণনেশায় আসক্ত ছিল উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, দেশে অপরাধ কমাতে হলে সবার আগে মাদকের বিস্তার শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে হবেপাশাপাশি, ভুক্তভোগী পরিবারকে ঘরবাড়ি, টাকা বা চাকরি দিয়ে সান্ত্বনা দেওয়ার সরকারি প্রচেষ্টাকে তীব্র সমালোচনা করে বলা হয়, টাকা বা সাহায্য দিয়ে কোনো সন্তানের জীবন ফিরিয়ে দেওয়া বা ইজ্জত কেনা সম্ভব নয় এবং এটি মূল বিচার প্রক্রিয়াকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে পারে

Post a Comment

0 Comments