বহুল আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণির সাথে ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা এবং পেশাগত অসাধাচরণের দায়ে অবশেষে চাকরি হারাচ্ছেন ডিবি’র সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মোহাম্মদ গোলাম সাকলায়েন। ৩০তম বিসিএস ব্যাচের এই মেধাবী ও চৌকশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে গুরুদণ্ড হিসেবে ‘বাধ্যতামূলক অবসরে’ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্য দিয়ে অবসান ঘটতে যাচ্ছে তার আলোচিত ও বিতর্কিত পুলিশি ক্যারিয়ারের।
২০২১ সালের বহুল আলোচিত বোট ক্লাব মামলাকে কেন্দ্র করে এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। ব্যবসায়ী নাসিরউদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে মামলা করেছিলেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। তৎকালীন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত উপকমিশনার গোলাম সাকলায়েন ছিলেন সেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। তদন্তের প্রয়োজনে যোগাযোগ শুরু হলেও পরবর্তীতে তা শুধু পেশাগত গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; দুজনের মধ্যে গড়ে ওঠে ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়।
বিবাহিত এবং এক সন্তানের জনক হওয়া সত্ত্বেও সাকলায়েন পরীমণির সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। এলআইসি শাখার কল ডিটেইল রেকর্ড (CDR) বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২১ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে তিনি একাধিকবার দিন ও রাতে পরীমণির বনানীর বাসায় গিয়েছেন এবং অবস্থান করেছেন। এছাড়া দুজনের মোবাইল ফরেনসিক রিপোর্টেও সাধারণ মামলা তদন্তের বাইরে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রমাণ মেলে।
২০২১ সালের ১ আগস্ট সাকলায়েনের স্ত্রী ঢাকার বাইরে থাকার সুযোগে পরীমণি তার রাজারবাগের সরকারি বাসভবনে যান এবং সেখানে প্রায় ১৭ ঘণ্টা অবস্থান করেন। সিসিটিভি ফুটেজে তাদের একসাথে প্রবেশ এবং বের হওয়ার দৃশ্য ধরা পড়ে, যা পরবর্তীতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সাকলায়েন ও পরীমণির একসাথে কেক কেটে জন্মদিন উদযাপনের একটি অন্তরঙ্গ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
২০২১ সালের আগস্ট মাসে মাদক মামলায় পরীমণি গ্রেফতার হওয়ার পর সিআইডি’র জিজ্ঞাসাবাদেও সাকলায়েনের সাথে সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপরই তাকে ডিবি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি সাকলায়েনের বিরুদ্ধে 'গুরুতর অসাধাচরণের' সত্যতা পায়।
পরবর্তীতে কারণ দর্শানোর নোটিশ, ব্যক্তিগত শুনানি এবং সরকারি কর্মকমিশনের (PSC) মতামত গ্রহণসহ সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে জড়িয়ে পড়া ব্যক্তিগত সম্পর্কই শেষ পর্যন্ত সাকলায়েনের দীর্ঘ পুলিশি ক্যারিয়ারের অকাল পরিসমাপ্তি টেনে দিল।
0 Comments