এমবাপ্পে ঝড়ে লণ্ডভণ্ড সেনেগাল: ২০২৬ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের রাজকীয় সূচনা


২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপ্পের অতিমানবীয় পারফরম্যান্সে সেনেগালকে ৩-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে জোড়া গোল এবং একটি অনবদ্য অ্যাসিস্ট করে ফরাসিদের জয়ের নায়ক ছিলেন অধিনায়ক এমবাপ্পে। এই জয়ের মাধ্যমে গ্রুপ পর্বে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট তুলে নিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের ফেভারিট তকমা আরও একবার প্রমাণ করল দিদিয়ের দেশমের দল।

ম্যাচের শুরু থেকেই সেনেগালের রক্ষণভাগের ওপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকে ফ্রান্স। গতি আর ড্রিবলিংয়ে আফ্রিকান দলটির রক্ষণভাগকে একাই ব্যস্ত রাখেন কিলিয়ান এমবাপ্পে।

ম্যাচের ২৪তম মিনিটে বক্সের বাঁ দিক থেকে উসমান দেম্বেলের পাস পান এমবাপ্পে। সেনেগালের দুজন ডিফেন্ডারকে ড্রিবলিংয়ে পরাস্ত করে ডান পায়ের এক নিখুঁত কোণাকুণি শটে বল জালে জড়ান তিনি (১-০)। প্রথমার্ধ শেষের ঠিক আগে এমবাপ্পের অ্যাসিস্ট থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফ্রান্স। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে দ্রুত গতিতে সেনেগালের বক্সে ঢুকে ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করেন তিনি। নিজে শট না নিয়ে ডান প্রান্তে ফাঁকায় থাকা মার্কাস থুরামকে পাস দেন, যা থেকে থুরাম আলতো টোকায় গোল করতে ভুল করেননি (২-০)।

দুই গোলে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে সেনেগাল। সাদিও মানের নেতৃত্বে বেশ কয়েকটি আক্রমণ চালায় তারা। ৬৫তম মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে নিকোলাস জ্যাকসনের পাস ধরে ফ্রান্সের রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে দুর্দান্ত এক গোল করেন ইসমাইলা সার। এই গোলে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় সেনেগাল (২-১)। সেনেগালের ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন ধুলিসাৎ করে দেন এমবাপ্পে নিজেই। ৮১তম মিনিটে আঁতোয়ান গ্রিজম্যানের থ্রু পাস ধরে বক্সের বাইরে থেকে বুলেট গতির এক দূরপাল্লার শটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের তৃতীয় গোলটি করেন ফরাসি অধিনায়ক (৩-১)। এই গোলের পর সেনেগালের আর ম্যাচে ফেরার কোনো সুযোগ ছিল না।

এই ম্যাচে জোড়া গোল করার মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজের মোট গোলসংখ্যা ১৪-তে নিয়ে গেলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এর মাধ্যমে তিনি ফরাসি কিংবদন্তি জাঁ ফন্টেইনের বিশ্বকাপে ফ্রান্সের হয়ে সর্বোচ্চ ১৪ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করলেন। মাত্র ২৭ বছর বয়সেই বিশ্বকাপের সর্বকালীন সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় মিরোস্লাভ ক্লোসার (১৬ গোল) রেকর্ডের একদম কাছাকাছি পৌঁছে গেলেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।

ম্যাচ পরিসংখ্যান

পরিসংখ্যানফ্রান্সসেনেগাল
ফলাফল
গোলদাতাএমবাপ্পে (২৪', ৮১'), থুরাম (৪২')ইসমাইলা সার (৬৫')
বল দখল৫৮%৪২%
শট (লক্ষ্যে)১৪ (৭)৮ (৩)
ফাউল১২

ম্যাচ শেষে জোড়া গোল ও এক অ্যাসিস্টের সুবাদে অবধারিতভাবেই 'ম্যান অব দ্য ম্যাচ' নির্বাচিত হন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এই অনবদ্য পারফরম্যান্সের পর ফুটবল পণ্ডিতদের মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এমবাপ্পে ইতিমধ্যেই নিজেকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছেন।

Post a Comment

0 Comments