নিউজিল্যান্ডের সাথে লড়াকু ড্রয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করলেও মাঠের বাইরের অব্যবস্থাপনা ও রাজনৈতিক উত্তাপে চরম ক্ষুব্ধ ইরান ফুটবল দল। ম্যাচ শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে ফিফা ও আয়োজকদের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ইরানের ৬২ বছর বয়সী অভিজ্ঞ কোচ আমির গালেনোই । তার দাবি, বিশ্বকাপের ইতিহাসে ইরান সম্ভবত সবচেয়ে বেশি অন্যায়ের শিকার হওয়া একটি দল।
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ক্লান্তি দূর করার জন্য ইরান দল লস অ্যাঞ্জেলেসে এক রাত অবস্থান করে পরদিন বিকেলে তাদের বেস ক্যাম্পে ফেরার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু আয়োজকরা সেই অনুরোধ রাখেনি। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই রাতে ইরান দলকে ১৪০ কিলোমিটার দূরে মেক্সিকোর তিহুয়ানায় (Tijuana) ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ইরান কোচ অভিযোগ করে বলেন, "আমরা বিমানে এত বেশি সময় কাটিয়েছি যে মাটিতে খুব কম সময় ছিলাম। আমাদের দুই সপ্তাহ আগে আসার সুযোগ দেওয়া হয়নি যাতে পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারি। এটা বেশ হাস্যকর যে, আমাদের দলের পুরো পরিকল্পনা অন্য কোথাও বসে ঠিক করা হচ্ছে।"
এমন অনাকাঙ্ক্ষিত তাড়াহুড়ো এবং অতিরিক্ত ক্লান্তিজনিত কারণে ইরানের একাধিক ফুটবলার ইতিমধ্যে পেশির টানে (ক্র্যাম্প) ভুগছেন। দলের তারকা ফরোয়ার্ড মেহেদী তারেমি স্পষ্ট ভাষায় তার হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, এই অতিরিক্ত ধকল ও তাড়াহুড়ো তাদের স্বাভাবিক সেরা খেলাটা খেলতে দিচ্ছে না। ফুটবলার হিসেবে তারা কেবল কিছুটা 'শান্তি' চান।
লস অ্যাঞ্জেলেসে ম্যাচটি শুরুর আগে স্টেডিয়ামের বাইরে প্রায় ৫০০ বিক্ষোভকারী তেহরান সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তাদের দাবি ছিল, এই ম্যাচ দেখা মানেই বর্তমান সরকারকে সমর্থন করা। তবে স্টেডিয়ামের ভেতরের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রায় ৭০ হাজার ইরানি সমর্থক সব রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে মনেপ্রাণে তাদের জাতীয় দলকে সমর্থন জোগান। গ্যালারিতে ফিফার নিরাপত্তা বলয় পেরিয়ে উNativeেছিল প্রাক-বিপ্লব আমলের নিষিদ্ধ সিংহ-সূর্য খচিত পতাকাও।
সমর্থকদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসাকে সম্মান জানিয়ে কোচ আমির গালেনোই বলেন, "এই ম্যাচটি এবং স্টেডিয়ামের আবহ আমাদের ফুটবল ইতিহাসের একটি টার্নিং পয়েন্ট। ৭০ হাজার মানুষ যেভাবে উল্লাস করেছেন, আমার মতে এটাই ছিল এই ম্যাচের আসল জয়।" তবে মাঠের বাইরের এই তীব্র রাজনৈতিক চাপ ও ভ্রমণের ধকল ইরান দলের পরবর্তী ম্যাচগুলোর পারফরম্যান্সে কেমন প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
0 Comments