পাবনায় জোরপূর্বক দোকানে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ: অভিযুক্তের বাড়ি ও দোকানে আগুন দিল বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী


পাবনার আতাইকুলা এলাকার আরিয়াডাঙ্গী গ্রামে এক নারীকে জোরপূর্বক দোকানে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনার জের ধরে অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়ি ও দোকানঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার সকালে এক স্থানীয় দোকানদার এক নারীকে জোরপূর্বক দোকানের ভেতরে আটকে রেখে ধর্ষণের চেষ্টা করে। ঘটনার কথা জানাজানি হলে মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে । এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী ও শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে বাড়ি ও দোকানে থাকা বিভিন্ন মালামাল সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে । প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ আগুন লাগার ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়

স্থানীয় আন্দোলনকারী ও প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থী জানান, ঘটনার সময় তারা খেলা শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। তখন অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই নারী বা ছাত্রীর হাত ধরে টানাহেঁচড়া করছিল। প্রথমে বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হলেও পরে তাকে জোরপূর্বক ঘরের ভেতর নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, ইতিপূর্বেও এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিকবার (অন্তত চারবার) এই ধরণের অভিযোগ উঠেছে এবং পূর্বে স্থানীয়ভাবে এর সমাধান করা হয়েছিল। এই ধরণের অপরাধীর সমাজে থাকার কোনো অধিকার নেই বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা

ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ধর্ষণের মূল অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে

Post a Comment

0 Comments