হবিগঞ্জে ৯ বছর বয়সী তৃতীয় শ্রেণির এক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন স্কুলছাত্রীকে পাশবিক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এই নৃশংস ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ও তার সহযোগীরা পলাতক রয়েছে। নির্মম এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে ফুঁসে উঠেছে ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন ওই শিশুটি তার মায়ের কাছ থেকে ২০ টাকা নিয়ে স্থানীয় একটি দোকানে খাবার কিনতে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে একটি ব্রিজের নিচের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় ওত পেতে থাকা বখাটে তার মুখ চেপে ধরে এবং টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে গামছা দিয়ে মুখ বেঁধে শিশুটিকে নির্মমভাবে ধর্ষণ করা হয়।
দূর থেকে চার-পাঁচজন পথচারী এবং শিশুটির আপন চাচা ঘটনাটি দেখতে পেয়ে চিৎকার করতে করতে ঘটনাস্থলের দিকে দৌড়ে যান। কিন্তু তারা পৌঁছানোর আগেই ধর্ষক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী শিশুটির মা জানান, তার অবুঝ শিশুটি জন্মগত সমস্যার কারণে ঠিকমতো কথা বলতে বা শিখতে পারে না, স্কুলেও শিক্ষকের বিশেষ সহযোগিতায় অনেক কষ্টে তৃতীয় শ্রেণিতে উঠেছে। তার সাথে ঘটে যাওয়া এই নির্মম অন্যায়ের উপযুক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চান তিনি।
এলাকাবাসী ও স্বজনদের অভিযোগ, স্থানীয় এলাকায় 'বশির' বা 'হানু' নামের ব্যক্তিসহ একটি সুসংগঠিত 'গাঁজাখোর চক্র' বা মাদক সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। এই মাদকাসক্ত গ্রুপটি এলাকায় এর আগেও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে। এই পুরো চক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ঘটনার খবর পাওয়ার পর পরই পুলিশের একটি তদন্ত দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অপরাধীদের অবস্থান শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের বিশেষ অভিযান ও তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
0 Comments