রাজধানীর গরুর হাটে ভয়ঙ্কর চাঁদাবাজি: প্রশাসনের সামনেই গাড়িপ্রতি ৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ


আসন্ন ঈদ-উল-আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর পশুর হাটে পিকআপ এবং অন্যান্য মালবাহী গাড়ি থেকে জোরপূর্বক ৫,০০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। চালকদের অভিযোগ, ৫,০০০ টাকার এই বিশেষ স্টিকার বা টিকিট না কাটলে হাটে গাড়ি ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না এবং গাড়ি থেকে গরু নামাতে বা উঠাতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। টিকিট ছাড়া হাটে প্রবেশ করলে হাটের ভলান্টিয়াররা ৫,০০০ টাকার মামলার ভয় দেখাচ্ছে এবং চালকদের সাথে দুর্ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে

ভুক্তভোগী চালক ও সাধারণ মানুষ চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, পুলিশ ও র‍্যাব প্রশাসনের সামনেই প্রকাশ্যে এই বিপুল অঙ্কের টাকা লেনদেন হচ্ছে। এমনকি পুলিশ বুথ বা কাউন্টারের ঠিক পাশেই দাঁড়িয়ে এই চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে দায়িত্বরত পুলিশ বা সার্জেন্ট কাউন্টারে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার মেলেনি; বরং প্রশাসন ও ইজারাদার উভয় পক্ষই বিষয়টি 'জানেন না' বলে এড়িয়ে যাচ্ছেন

চালকরা জানান, বিগত বছরগুলোতে পশুর হাটে গাড়ি প্রবেশের ক্ষেত্রে এই ধরনের কোনো নিয়ম বা বিপুল অঙ্কের টাকা নেওয়ার চল ছিল না। আগের বছরগুলোতে এটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ছিল অথবা সর্বোচ্চ ১,০০০ থেকে ১,৫০০ টাকা নেওয়া হতো। কিন্তু এবার এক লাফে ৫,০০০ টাকা নির্ধারণ করায় গরিব চালক ও সাধারণ খামারিরা চরম জিম্মিদশার মধ্যে পড়েছেন

চালকরা নিয়মিত সরকারি ট্যাক্স, ভ্যাট ও ফিটনেস ফি দিয়ে রাস্তায় গাড়ি চালালেও হাটে এসে এই অতিরিক্ত চাঁদা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। নিজের পকেট থেকে এই টাকা দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে সাধারণ ক্রেতা বা গ্রাহকদের কাছ থেকে বাড়তি গাড়িভাড়া আদায় করছেন। ফলে হাটের এই চাঁদাবাজির চূড়ান্ত দায় ও আর্থিক চাপ সাধারণ মানুষের ওপরেই গিয়ে পড়ছে

সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে দেশ চাঁদাবাজিমুক্ত রাখার ঘোষণা দেওয়া হলেও মাঠ পর্যায়ে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষের ওপর চলমান এই 'জুলুম' ও হয়রানি বন্ধে এবং অবিলম্বে এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ভুক্তভোগীরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন

Post a Comment

0 Comments