ইরানের সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো হামলা, বিশ্বজুড়ে তীব্র আতঙ্ক


উত্তেজনায় ফুটছে মধ্যপ্রাচ্য। যেকোনো মুহূর্তে বেজে উঠতে পারে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা। গভীর রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে ইরানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় দফায় দফায় ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক সদর দপ্তর পেন্টাগনের নির্দেশে বুধবার স্থানীয় সময় রাত দেড়টা থেকে এই তাণ্ডবলীলা শুরু হয়। মার্কিন আগ্রাসনের পর তেহরানের আকাশ এখন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন আর পুরো বিশ্ব অবরুদ্ধ এক চরম আতঙ্কে।

জানা গেছে, ওমান উপকূলের আকাশ সীমায় টহলরত একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টারকে টার্গেট করে ইরান। মার্কিন গোয়েন্দাদের দাবি, ইরানের তৈরি একটি শক্তিশালী শাহেদ ড্রোন নিখুঁত নিশানায় আঘাত করে মার্কিন হেলিকপ্টারটিকে আকাশ থেকে নামিয়ে আনে। এই ঘটনার রক্তক্ষয়ী প্রতিশোধ হিসেবে ওয়াশিংটন তেহরানে হামলা চালায়

প্রথম দফায় বুধবার রাত দেড়টায় ইরানের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেশবদ্বীপ, জাস্ক এবং সিরি বন্দরে আঘাত হানে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো। এরপর ভোররাত সাড়ে তিনটা এবং সাড়ে চারটার দিকে বন্দর আব্বাসে শক্তিশালী বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে চারপাশ। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানের অযৌক্তিক ও উদ্ধত আচরণের বিরুদ্ধে এটি ছিল তাদের অত্যন্ত সমানুপাতিক এবং যৌক্তিক জবাব

অ্যাপাচি হেলিকপ্টারটি ধ্বংস হলেও অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন ভেতরে থাকা দুই মার্কিন ক্রু সদস্য। চালকবিহীন অত্যাধুনিক ড্রোন নৌযান পাঠিয়ে মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে ওই দুই পাইলটকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে মার্কিন নৌবাহিনী। পাইলটদের উদ্ধারের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং গণমাধ্যমে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, আমেরিকার ওপর এই আঘাতের চরম মূল্য দিতে হবে ইরানকে

মার্কিন হামলার পর এক চুলও ছাড় দিতে রাজি নয় তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের সীমানার কাছাকাছি অবস্থান করা যেকোনো বিদেশী সামরিক বাহিনী সবসময়ই তাদের রাডারে এবং চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইরানী বাহিনী কোনো হামলা মুখ বুজে সহ্য করবে না এবং নিজেদের নিরাপদ রাখতে চাইলে অবিলম্বে মার্কিন সেনাদের এই অঞ্চল ছেড়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানান

এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ফলে দুই মাসের একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি ভেস্তে গেছে। এর আগের দিনেই ইসরাইলি বিমান হামলায় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিটের দুই সেনা সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় পরিস্থিতি এমনিতেই থমথমে ছিল, আর এখন আমেরিকার সরাসরি হস্তক্ষেপে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে

এই যুদ্ধ কেবল মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, এর প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে এক মহা বিপর্যয় নেমে এসেছে। বিশ্ববাজারে হুহু করে বাড়ছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম, যার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যসহ সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হতে শুরু করেছে। ফলস্বরূপ পুরো বিশ্ব এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দার দিকে ধাবিত হচ্ছে।

Post a Comment

0 Comments