মাছ ঘাটে চরম চাঁদাবাজি: চট্টগ্রামে সড়কে মাছ ফেলে জেলেদের তীব্র বিক্ষোভ


ঘাটে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় এবং দফায় দফায় নির্যাতনের বিরুদ্ধে অভিনব উপায়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন উপকূলীয় জেলেরা। বুধবার (২৪ জুন) বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম নগরীর রানী রাসমনি ইলিশ ঘাটের জেলেরা এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। প্রতিবাদস্বরূপ ক্ষুব্ধ জেলেরা ধানিয়ালা পাড়া সংলগ্ন রাসমনি ঘাট এলাকার প্রধান সড়কে মাছ ও বরফ ঢেলে এবং হাতে মাছ নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।

বিক্ষোভকারী জেলেরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা করলেও গত প্রায় দুই মাস ধরে একটি নির্দিষ্ট চক্র ঘাটে অবৈধ 'খাস কালেকশন'-এর নাম দিয়ে চাঁদাবাজি চালাচ্ছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জেলেদের ওপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হচ্ছে। এমনকি জেলেদের নৌকা, জাল, দড়ি, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন সরঞ্জামের ওপরও জোরপূর্বক চাঁদা বসানো হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন

ঘাটের এক ক্ষুব্ধ প্রবীণ জেলে বলেন, "আমাদের বাপ-দাদা, চৌদ্দগোষ্ঠী এই রাজমনি ঘাটে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেছে, কিন্তু কোনোদিন এমন চাঁদাবাজি দেখিনি। এখন রাত-দিন আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়"। অপর এক ভুক্তভোগী জানান, শুধু মাছ ব্যবসায়ী নয়, ঘাটের চা-দোকানি, পানির ফিল্টার, এমনকি বাদাম ও ঝালমুড়ি বিক্রেতাদের ওপরও চাঁদা ধার্য করা হয়েছে। চক্রটির বেপরোয়া চাঁদাবাজির কারণে তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জেলেরা অভিযোগের আঙুল তুলেছেন রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা ব্যক্তিদের দিকে। তাদের দাবি, বিএনপির বহিষ্কৃত কিছু নেতাকর্মী এই চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে এবং গত বেশ কিছুদিন ধরে পুরো ঘাট এলাকাকে জিম্মি করে রেখেছে। এই বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সুরাহা মেলেনি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা

রানী রাসমনি ঘাট সংলগ্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল শেষে জেলেরা কিছুক্ষণের জন্য সড়ক অবরোধ করে রাখেন। এর ফলে ওই এলাকায় সাময়িক যানজটের সৃষ্টি হয়। জেলেরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, অতিদ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এই চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে এবং জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে তারা 'আমরণ অনশন' এর মতো কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন

Post a Comment

0 Comments