তেল সংকট ও হরমুজ প্রণালী বন্ধের আতঙ্ক: ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ থামানোর আসল কারণ জানালেন ট্রাম্প


ইরান যুদ্ধ এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে ইতিপূর্বে নিজের ক্ষমতা ও সাফল্যের নানা দাবি করলেও, এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মুখ ফস্কে স্বীকার করলেন আসল সত্য। গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের চাপ বা দুর্বলতা নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব তেল সংকট এবং বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার আতঙ্কেই তিনি ইরানের সাথে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে বাধ্য হয়েছিলেন।

সংবাদমাধ্যম 'অ্যাক্সিওস' (Axios)-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা এবং যুদ্ধের অবসান ঘটানো ছাড়া তৎকালীন সময়ে তাঁর সামনে আর কোনো বাস্তব বিকল্প ছিল না। ট্রাম্প বলেন, "আমরা যদি ইরানে বোমাবর্ষণ অব্যাহত রাখতাম, তাহলে হরমোজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেত। পুরো প্রণালীটি মাইন পেতে অচল করে দেওয়া হতো এবং বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের জাহাজগুলোর ওপর দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র উড়ে বেড়াত। তখন মাসের পর মাস আমরা কোনো তেল পেতাম না এবং একসময় আমরা সম্পূর্ণ তেলশূন্য হয়ে পড়তাম।"

যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে যাঁরা ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান ও যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে ছিলেন, তাঁদের উদ্দেশ্যে ট্রাম্প বলেন, আরও কঠোর হওয়ার একমাত্র উপায় ছিল বড়জোর আরও দুই বা তিন সপ্তাহ বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাওয়া। কিন্তু তাতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো লাভ হতো না। কারণ, যতক্ষণ বোমাবর্ষণ চলত, ততক্ষণ হরমোজ প্রণালী কার্যত বন্ধই থাকত এবং দীর্ঘমেয়াদি তেল সংকটের কারণে তা বিশ্বব্যাপী এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দার কারণ হতে পারত

ট্রাম্পের এই জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা যে অমূলক ছিল না, তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান তেলের মজুদের পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট । বর্তমানে দেশটিতে অপরিশোধিত তেলের মজুদ কমে মাত্র ২ কোটি ব্যারেলে নেমে এসেছে, যা গত ১১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এছাড়া বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থাপনার জন্য গঠিত মার্কিন কৌশলগত তেল মজুদও (Strategic Petroleum Reserve) ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি—মাত্র ৩৪ কোটি ব্যারেলে এসে ঠেকেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় তেল কোম্পানির কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে সতর্ক করেছেন যে, জুনের শেষভাগ থেকে জুলাইয়ের শুরুর দিকে এই মজুদ আরও মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে

ট্রাম্পের এই সরল স্বীকারোক্তির মধ্য দিয়ে ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান যুদ্ধে হরমুজ প্রণালীকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার যে কৌশল খামেনী প্রশাসন নিয়েছিল, তা পুরোপুরি সফল হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের কোনো দুর্বলতা নয়, বরং নিজের দেশের চলমান তেল সংকট এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঠেকাতেই শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধের পথ বেছে নিতে বাধ্য হন ডোনাল্ড ট্রাম্প

Post a Comment

0 Comments