ধর্ষণ ও হত্যাবিরোধী আন্দোলনের মধ্যেই নারায়ণগঞ্জ ও গাইবান্ধায় দুই শিশুকে পাশবিক নির্যাতন


দেশজুড়ে ধর্ষণ ও হত্যাবিরোধী তীব্র আন্দোলনের মাঝেই নারায়ণগঞ্জ এবং গাইবান্ধায় দুই অবুঝ শিশুকে পাশবিক নির্যাতনের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

নারায়ণগঞ্জে ২০ টাকার প্রলোভনে ৬ বছরের শিশুকে নির্যাতন ও গণরোষ:

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার চর বয়ারগা এলাকায় শুক্রবার সন্ধ্যায় খেলার মাঠ থেকে ছয় বছরের এক শিশুকে ২০ টাকার লোভ দেখিয়ে পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সোহেল ও হিরু নামের দুই যুবক শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়

শিশুটির শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি হলে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হওয়ায় রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) স্থানান্তর করা হয়

এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত মনির হোসেনের ছেলে হিরুকে ধরে গণপিটুনি দেয় এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকেও হাসপাতালে পাঠানো হয়এছাড়া ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তদের বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরবর্তীতে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং জনরোষের মুখে পালিয়ে যাওয়া অপর অভিযুক্ত সোহেলকেও গ্রেফতার করে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে

গাইবান্ধায় ৩য় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা ও পুলিশের বিতর্কিত ভূমিকা:

গাইবান্ধার শাহাপাড়া ইউনিয়নের চক ভগবানপুর গ্রামে বখাটে যুবক ইমরান সরকার তৃতীয় শ্রেণীর এক শিশু শিক্ষার্থীকে একটি লিচু বাগানে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। শিশুটির চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে ইমরানকে হাতেনাতে ধরে গণপিটুনি দেয় এবং ইউনিয়ন পরিষদ অফিসে আটকে রাখে

ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গাইবান্ধা সদর থানার কর্তব্যরত একজন এএসআই কোনো অদৃশ্য কারণে অভিযুক্ত ইমরানকে মাত্র একটি মুচলেকায় ছেড়ে দেয়। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চরম বিতর্কের সৃষ্টি হয়

ব্যাপক সমালোচনার মুখে এবং ঘটনার পরদিন শুক্রবার রাতে শিশুর বাবা বাদী হয়ে মামলা করলে প্রশাসনের টনক নড়ে। পরবর্তীতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত নির্যাতনকারী ইমরানকে পুনরায় গ্রেফতার করতে বাধ্য হয়

Post a Comment

0 Comments