মার্কিন বিমান বাহিনীর গর্ব এবং বর্তমান বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী যুদ্ধবিমান এফ-৩৫ (F-35) নিয়ে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে পেন্টাগন। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা মরুভূমিতে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একটি এফ-৩৫ বিধ্বস্ত হয়েছে, অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে যে তারা তাদের আকাশসীমায় একটি মার্কিন এফ-৩৫ ভূপাতিত করেছে। এই জোড়া ঘটনায় ট্রিলিয়ন ডলারের এই প্রজেক্ট এবং এর 'স্টেলথ' বা রাডার ফাঁকি দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা মরুভূমিতে রুটিন ট্রেনিং চলাকালীন নেলিস এয়ারফোর্স বেসের অদূরে একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মরুভূমিতে আছড়ে পড়ে এবং বিশাল অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হয়। তবে বিমানটি মাটির সাথে সংঘর্ষের ঠিক আগ মুহূর্তে পাইলট নিজেকে নিরাপদে ইজেক্ট করতে সক্ষম হন। পেন্টাগনের জন্য এই দুর্ঘটনা কেবল আর্থিক ক্ষতিই নয়, বরং অত্যাধুনিক এই বিমানের কারিগরি মান নিয়ে বড় ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে।
নেভাদার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই তেহরান থেকে দাবি করা হয় যে, তারা তাদের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশকারী একটি মার্কিন এফ-৩৫ বিমানকে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভূপাতিত করেছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, তাদের সেন্ট্রাল ডিফেন্স সিস্টেম রাডারের চোখ ফাঁকি দিতে সক্ষম এই 'অদৃশ্য' বিমানটিকে ট্র্যাক করতে সক্ষম হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছয় সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, রাতের আকাশে একটি বিমানে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানছে। ইরান এই অভিযানকে 'অপারেশন এপিক ফিউরি'র অংশ বলে অভিহিত করেছে।
পেন্টাগন সরাসরি বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার কথা স্বীকার না করলেও, মধ্যপ্রাচ্যে একটি এফ-৩৫ বিমানের জরুরি অবতরণের খবর নিশ্চিত করেছে। ১৯৯৯ সালে সার্বিয়ায় এফ-১১৭ নাইটহক বিধ্বস্ত হওয়ার পর এটিই মার্কিন স্টেলথ প্রযুক্তির জন্য সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছুদিন আগেই ইসরাইলি বিমান বাহিনী এফ-৩৫ ব্যবহার করে ইরানের একটি বিমান ধ্বংস করেছিল, যা ছিল এই বিমানের প্রথম আকাশ যুদ্ধজয়। কিন্তু সেই সাফল্যের পরপরই খোদ 'শিকারী' বিমানকেই শিকার হতে হলো কি না, তা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের দ্বারাও ইতিপূর্বে এই বিমান লক্ষ্য করে আক্রমণের চেষ্টা করা হয়েছিল।
বর্তমানে বিশ্বের ১৯টি দেশের আকাশ সুরক্ষায় প্রায় ১৩০০ এফ-৩৫ বিমান নিয়োজিত রয়েছে। তবে নেভাদার দুর্ঘটনা এবং ইরানের পাল্টা দাবি লকেড মার্টিনের এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির শ্রেষ্ঠত্বকে এখন এক কঠিন পরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়েছে।
0 Comments