রেকর্ড প্রতিরক্ষা বাজেট পাশ ইসরায়েলে: লক্ষ্য কি 'গ্রেটার ইসরায়েল' গঠন ও মধ্যপ্রাচ্যের পুনর্গঠন?


ইরান ও লেবাননের সাথে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই ২০২৬ অর্থবছরের জন্য ২৭১ বিলিয়ন ডলারের এক বিশাল বাজেট পাশ করেছে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট 'নেসেট'। এই বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে রেকর্ড ৪৫.৮ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার বেশি। বিশ্লেষকরা এই বিশাল অংকের বরাদ্দকে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দিয়ে 'গ্রেটার ইসরায়েল' গঠনের ব্লুপ্রিন্ট হিসেবে দেখছেন।

ইসরায়েলি আইন অনুযায়ী, ৩১ মার্চের মধ্যে বাজেট পাশ করতে ব্যর্থ হলে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি ছিল। এমন এক সংকটময় মুহূর্তে এবং ইরান থেকে ধেয়ে আসা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সাইরেনের মধ্যে সংসদ সদস্যরা বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়ে এই বাজেট প্রস্তাবে ভোট দেন। বিরোধী দলের দীর্ঘ ১৩ ঘণ্টার ম্যারাথন বক্তব্য সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত বাজেটটি পাশ হয়।

বাজেটের সবচেয়ে বিতর্কিত এবং আলোচিত দিক হলো প্রতিরক্ষা ও অবৈধ বসতি স্থাপন। অর্থমন্ত্রী স্মোট্রিচ জানিয়েছেন, এই বিশাল অর্থ বরাদ্দ ইসরায়েলকে ভৌগোলিক ও কূটনৈতিকভাবে শক্তিশালী করবে এবং মধ্যপ্রাচ্যকে নতুন করে সাজাতে সহায়তা করবে।দোহান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসীর মতে, এই বাজেটের মাধ্যমে সিরিয়া, লেবানন ও ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের প্রস্তুতি ফুটে উঠেছে। পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতি স্থাপনের জন্যও রাখা হয়েছে বিপুল অংকের অর্থ, যা মূলত 'গ্রেটার ইসরায়েল' স্বপ্নেরই প্রতিফলন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ এই বাজেটকে কঠোর সমালোচনা করে একে 'ডাকাতি' বলে অভিহিত করেছেন। তার অভিযোগ, যখন যুদ্ধের অজুহাতে সব মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ৩ শতাংশ কমানো হয়েছে, তখন কট্টরপন্থী ধর্মীয় গোষ্ঠী ও অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের সন্তুষ্ট করতে সরকারি কোষাগার উজাড় করছে নেতানিয়াহু সরকার।

২৭১ বিলিয়ন ডলারের এই দানবীয় বাজেট লোহিত সাগর থেকে তেহরান পর্যন্ত এক নতুন রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দেওয়ার এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হবে, তা আগামী সময় বলে দিবে।

Post a Comment

0 Comments