ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাঁপছে তেল আবিব: ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ফাটল


ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের এক মাস পেরিয়ে গেলেও হামলার তীব্রতা কমেনি, বরং ইরানের পাল্টা আঘাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো। গত মঙ্গলবার ইরানের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি তেল আবিব, বেনিব্রাগ এবং পেতাহ টেকফা এলাকায় আঘাত হানে। ইসরায়েলি চ্যানেল ১২-এর তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন এবং বেশ কিছু যানবাহনে আগুন ধরে গেছে

ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঠিক আগেই ইরানের সেনাবাহিনী ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শিল্প অবকাঠামো লক্ষ্য করে বড় ধরনের ড্রোন অভিযান পরিচালনা করে। ইরানের সেনাবাহিনীর ৪৯তম বিবৃতি অনুযায়ী, তেল আবিব এবং শিল্পনগরী নোফা গালিলে অবস্থিত ইসরায়েলের শীর্ষ প্রতিরক্ষা কোম্পানি 'এলবিট সিস্টেমস' এবং 'কানফিট'-এর কারখানাগুলো ছিল এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করাই ছিল এই ড্রোন হামলার মূল উদ্দেশ্য।

রেসপন্সিবল স্টেটক্রাফটের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুদ্ধের এক মাস পার হওয়ার পর ইসরায়েলের বহুল আলোচিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের দুর্বলতা দেখা দিচ্ছে। তেল আবিব, দিমোনা এবং আরাদের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে আঘাত হানছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা মিজাইলের মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে আসায় ইসরায়েল এখন বড় মিসাইল আটকাতে ‘ডেভিড স্লিং’-এর মতো ছোট পাল্লার সিস্টেম ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে, যা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে খুব একটা কার্যকর হচ্ছে না

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান এখন পর্যন্ত চার শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং শত শত ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এর পাশাপাশি লেবাননের হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকেও নিয়মিত হামলা চালানো হচ্ছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এভাবে যুদ্ধ চলতে থাকলে ইসরায়েলের প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ দ্রুতই শূন্য হয়ে যেতে পারে। তেমনটি হলে ইসরায়েলের আকাশ ইরানের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত হয়ে পড়বে এবং ইরান কোনো বাধা ছাড়াই যেকোনো সামরিক স্থাপনায় ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে

Post a Comment

0 Comments